গত একমাস ধরে লিওনেল মেসিকে ঘিরে কতশত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পেশীর সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনার জার্সিতে অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন। আগেভাগেই অবসরের গুঞ্জন উঠেছিল। জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি এসব কানাঘুষা উড়িয়ে দেন। পরের দিনই ৩৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জাদু দেখালেন।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি মাঠে নেমেছিলেন মেসি। মঙ্গলবার পেরুর মাঠে ছিলেন শুরুর একাদশে। প্রথম ৪৫ মিনিটেই রাখলেন প্রভাব। করেছেন জোড়া গোল। ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা।
গত কয়েক সপ্তাহ মাঠে মেসির জাদুকরী মুহূর্ত না দেখে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ভক্তরা। গত ম্যাচে শেষ দিকে আধঘণ্টার একটু বেশি খেললেও নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। পেরুর বিপক্ষে মুগ্ধ করলেন। বুঝিয়ে দিলেন ফুরিয়ে যাননি। শুরুর দিকেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের নাকানিচুবানি খাওয়াতে দেখে সেটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফ্রি কিক থেকেও তার বাঁকানো শট ছিল দেখার মতো, যদিও পেরু গোলকিপার পেদ্রো গালেসে রুখে দিয়েছেন। একবার তো বক্সের অনেক দূর থেকে নেওয়া শট একটুর জন্য গোলপোস্ট ঘেষে বেরিয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত চমৎকার গোল করে রাতটা স্মরণীয় করেন মেসি। ৩২ মিনিটে নিকোলাস গনজালেসের কাটব্যাক থেকে বক্সের মাথায় ভলি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে জাল কাঁপান। এই গোলটি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি। কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শীর্ষ গোলদাতা হলেন মেসি। ৩০তম গোলটি করে পেছনে ফেলেছেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজকে।
১০ মিনিট পর মেসির দ্বিতীয় গোলটাও ছিল প্রায় একইরকম। একই জায়গা থেকে, তবে শটটা ছিল নিচু এবং কিপারের ডানদিক দিয়ে। তাগলিয়াফিকোর পাস ধরে এনজো ফের্নান্দেজ বল পান পেনাল্টি এরিয়ায়। তিনি বল বাড়ান জুলিয়ান আলভারেজের দিকে। ম্যানসিটি স্ট্রাইকার শট নিতে না পেরে মেসিকে পাস দেন। বাঁ পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান অধিনায়ক। বিরতির পর হ্যাটট্রিকও পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চার ম্যাচ খেলে সবগুলোই জিতলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ১২ পয়েন্ট নিয়ে কনমেবল অঞ্চলের বাছাইয়ে টেবিলে শীর্ষে তারা।
আগামী ১৬ নভেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। পাঁচ দিন পর তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।