জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চারদিনেই ম্যাচ হেরে গেছে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে বাংলাদেশ দাপট দেখালেও জিম্বাবুয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ছিলেন অসহায়। দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত চতুর্থ দিন সকালে ব্যাটিং নেমেই সাজঘরে ফেরেন। ম্যাচ শেষে সেই ব্যর্থতা স্বীকার করলেন তিনি।
নিজের কাঁধে দায় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছেন, ‘বাকিদের দোষ দিচ্ছি না। সকালে আমরা যখন ব্যাট করতে নামি, যদি আরেকটু সময় টিকে থেকে রান করতাম, তাহলে ২০০-২২০ রান হতো। কিন্তু এই রানটা হয়নি। এর দায় সম্পূর্ণ আমি নিচ্ছি, কারণ আমি খুবই বাজে একটা সময় আউট হয়েছি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ম্যাচ হেরে হতাশা লুকাতে পারলেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘অবশ্যই হতাশার। ওভারঅল পুরো ম্যাচটা যদি বিশ্লেষণ করি, আমরা খুব একটা ভালো ক্রিকেট খেলিনি। যার কারণেই ম্যাচ হেরেছি। অতিরিক্ত হতাশার এটা আসলে বলবো না। একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল। আপসেট। ভালো করিনি। এতটুকুই।’
চতুর্থ দিনের প্রথম ওভারেই নিজের উইকেট হারানোটাই কাল হয়েছে বলে মনে করেন শান্ত, ‘আমার কাছে তাই মনে হয়। আমার আউটটা পুরো খেলাটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আমার মনে হয় ওই ছন্দটা ওরা পাওয়াতে আমরা খেলাটা হেরে গেছি।’
নিজের ব্যাটিং নিয়ে শান্ত আরও বলেছেন, ‘আমার সাধারণত রানের জন্য চিন্তা থাকে। স্কোরিংয়ের সুযোগ খোঁজার চিন্তা থাকে। যে আউট হয়েছি, আমার কাছে মনে হয়েছে আমি সময় নিতে পারতাম। আরেকটু সময় নিতে পারতাম। যেটা আপনি বললেন দিনের দ্বিতীয় বল ছিল। আমারও মনে হয় আরেকটু সময় নিলে ভালো হতো। এই শটটা আমি খেলি। পাশাপাশি এটাও সত্য দলের যে পরিস্থিতি ছিল আমি টাইম নিলেও পারতাম।’
ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও বোলিংয়ে দারুণ ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ও মিরাজ ছিলেন অসাধারণ। তাদের প্রশংসা করে শান্ত বলেছেন, ‘ওখানে মিরাজ ও তাইজুল ভাই অসম্ভব ভালো বোলিং করেছেন। বোর্ডে এরকম রান থাকার পরও ওরা যেভাবে চেষ্টা করেছেন, সেটাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, বোর্ডে যথেষ্ট রান ছিল না।’
সিলেটে স্পোর্টিং উইকেটে হারতে হলো বাংলাদেশকে। হারলেও সামনে এমন উইকেটেই খেলতে চান শান্তরা, ‘আমার মনে হয়, এরকম স্পোর্টিং উইকেটে খেলা উচিত। উইকেট খুবই ভালো ছিল। ব্যাটারদের জন্য যেরকম সুবিধা ছিল। বোলারদের জন্যও টুকটাক সুবিধা ছিল। এখান থেকে আসলে পেছনে তাকানোর প্রয়োজন নেই। সামনের ম্যাচে এ ধরনের উইকেট থাকা উচিত।’
সংবাদ সম্মেলেন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। ম্যাচ ফি বেড়েছে। আর কী করলে আপনাদের পারফরম্যান্স ভালো হবে?’ জবাবে শান্ত বলেন, 'অনেকদিন পর বেতন বেড়েছে। এটা অবশ্যই ভালো খবর। বিসিবি অনেক আন্তরিক এই ক্ষেত্রে। তারা চেষ্টা করছেন। কিন্তু আর কী করলে পারফরম্যান্স ভালো হবে এটা বোধহয় বসে আমাদের আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।’