গত রাত থেকেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত হচ্ছিলেন লিটন দাস। মাঠ নেমে জন্মদিন রাঙানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু পারলেন না তিনি। শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল্ডের ডাক মেরে দলকে শুরুতেই বিপদে ফেলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। বাংলাদেশের দশম ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপে গোল্ডেন ডাকে আউট হওয়ার তালিকায় নাম লিখলেন তিনি।
তামিমবিহীন ওপেনিংয়ে লিটনের ওপরই প্রত্যাশার মাত্রা বেশি ছিল। প্রত্যাশা সেভাবে পূরণ করতে পারছিলেন না তিনি। অনেকদিন ধরেই ফর্মহীনতায় ভোগা লিটন আগের ম্যাচে ইংলিশদের বিপক্ষে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু কিউইদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পুরো দলকেই হতাশায় ডোবালেন। ট্রেন্ট বোল্টের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার।
ওপেনিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলে এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আউট হলেন লিটন। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে আউট হয়েছিলেন ইনিংসের প্রথম বলে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সব সংস্করণ মিলিয়ে লিটনের এটি ১৭তম ডাক।
১৯৯৯ বিশ্বকাপ থেকে নিয়মিত মর্যাদার আসরে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপ ছাড়া বাকি আসরগুলোতে গোল্ডেন ডাকে এক বা একাধিক ব্যাটার আউট হয়েছেন। টানা দুই আসর বন্ধ থাকার পর চলতি বিশ্বকাপে শান্ত ও লিটন সেই গোল্ডেন ডাকের লজ্জা ফিরিয়ে আনলেন!
চলতি বিশ্বকাপে লিটন ছাড়া আরও একজন টপ অর্ডার গোল্ডেন ডাকে আউট হয়েছেন। ইংলিশদের বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে শান্ত ‘বাজে’ রেকর্ডের ভাগীদার হন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে চেমসফোর্ড নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই গোল্ডেন ডাক মেরেছিলেন মোহাম্মদ রফিক। বিশ্বকাপে এই স্পিন অলরাউন্ডারই ছিলেন বাংলাদেশের হয়ে গোল্ডেন ডাকে আউট হওয়া প্রথম ক্রিকেটার। ওই বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের।
২০০৩ সালের পরের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চামিন্দা ভাসের তোপে গোল্ডেন ডাকে আউট হয়েছিলেন হান্নান সরকার, মোহাম্মদ আশরাফুল ও এহসানুল হক। একই বিশ্বকাপে কিউইদের বিপক্ষে হাবিবুল বাশারও আউট হয়েছিলেন প্রথম বলে। এছাড়া ২০০৭ বিশ্বকাপে সৈয়দ রাসেল এবং ২০১১ বিশ্বকাপে শফিউল ইসলামও এই তালিকায় আছেন।