দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে জিম্মি করে ব্যবসায়ীদের মুনাফা করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
বুধবার (১২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম এ অভিযোগ করেন।
জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফয়জুল হাকিম বলেন, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে নতুন কূপ খনন না করে দেশকে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি শ্রেণির ব্যবসায়ীকে লাভবান হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশ বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল করতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও মেরামতের উদ্যোগ না নিয়ে রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনাকে এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমেও লুটপাট চলছে বলে অভিযোগ করেন ফয়জুল হাকিম। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে জিম্মি করে ব্যবসায়ীদের মুনাফা করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্প ও কৃষির বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে উৎপাদনব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি শ্রেণির লুণ্ঠনজীবী ব্যবসায়ীর হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা থাকায় গত ৫৫ বছরে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য ভারী শিল্প গড়ে ওঠেনি।
দুর্নীতিবাজ আমলা ও ব্যবসায়ীদের লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিবৃতিতে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতের হাতে জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানায় জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।









