ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত সবার নাম প্রকাশ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিতসহ আট দফা দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এ সময় ‘আয়নাঘর’ থেকে যাদের এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি তাদের মুক্তির দাবি তোলেন দলের সংগঠক মাইকেল চাকমা।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাইকেল চাকমা বলেন, ‘অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। দেশের মানুষ এখন মুক্ত হাওয়ায় প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ এখনও স্বাধীনতার সেই স্বাদ পায়নি। পাহাড়ে এখনও পরিবর্তনের হাওয়া পৌঁছেনি। সমতলে অন্যায়ভাবে আটক রাজবন্দিরা মুক্তি পেতে শুরু করলেও, পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্দি ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এখনও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জামিন পাওয়ার পরও জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতারের কারণে তারা এখন নতুন করে আদালতে জামিনের আবেদন করতে সাহস পাচ্ছেন না।’
পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন বা নিপীড়নমূলক অবস্থা জারি রেখে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে গণতন্ত্র কায়েম সম্ভব না বলে মনে করেন মাইকেল চাকমা। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে দেশে প্রকৃত অর্থবহ সংস্কার সম্ভব না।’
ইউপিডিএফের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবি হলো– অবিলম্বে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলে আটক ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে; আদালত থেকে জামিনের পর জেল গেট থেকে পুনরায় গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে এবং ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; স্বনির্ভর গণহত্যা ও পানছড়িতে চার যুব নেতা হত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে এবং তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে যুক্ত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন– পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি সুনয়ন চাকমা, ইউপিডিএফ সদস্য থুইখোচিং মারমা।