সংসারের অভাব-অনটন দূর করার আশায় কাজের সন্ধান করছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এক নারী। এসময় নাছির উদ্দিন নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেবে বলে জানায় নাসির। কয়েক দিন পর ওই নারীকে মোবাইল ফোনে নাসির জানায়, তার জন্য ভালো চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ আশ্বাসে গত ১৬ জুলাই ঢাকা আসেন ওই নারী। পরে তাকে ভাটারা থানাধীন জোয়ার সাহারা বাজারের উত্তর পাশে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখে নাসির উদ্দিন। সেখানে আরেকটি মেয়ে ছিল। একপর্যায়ে দুই নারীকেই নাছির উদ্দিন ও তার স্ত্রী নার্গিছ আক্তার বৃষ্টি যৌনকাজ করে অনেক টাকা আয় করার প্রলোভন দেখায়। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের আরেকটি রুমে আটকে রাখা হয়।
পরে গোপনে খবর পেয়ে র্যাব-১ অভিযান চালিয়ে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করে। আটক করা হয় নাছির উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে।
এ ঘটনায় গত ১৭ জুলাই ভাটারা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ৩৩ বছর বয়সী ওই নারী। তদন্ত শেষে ভাটারা থানার এস আই সজিব হোসেন রাজু গত ১৪ অক্টোবর নাছির উদ্দিন ও তার স্ত্রী নার্গিছ আক্তার বৃষ্টিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে বলা হয়, নাছির উদ্দিন ও তার স্ত্রী নার্গিছ আক্তার বৃষ্টি তাদের টিনশেড বাসায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এনে অসহায় নারীদের চাকরি ও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আটক রাখতো। পরে তাদের যৌনকাজে বাধ্য করা হতো। এ কাজের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে আসছিল তারা।
এস আই সজিব হোসেন রাজু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি।