মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানোর মাধ্যমে জনগণের কাছে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা পাঠাবে সরকার। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানায় মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের একটি প্রকল্পের আওতায় ওয়েবভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ও সমন্বিত পদ্ধতির সাহায্যে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা পাঠানোর কার্যক্রম চলমান আছে। প্রকল্পটির যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর দেশে বিদ্যমান সব মোবাইল অপারেটর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারবে।
আগের বৈঠকের (১৯ অক্টোবর) কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, সরকারের বিভিন্ন তথ্য মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া যার কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বলেন তিনি।
ওই বৈঠকে কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, উন্নত বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছয় মাস থেকে এক বছর আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে কত দিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে বৈঠকে উপস্থিত থাকা আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক কমিটিকে জানান, বাংলাদেশে আবহাওয়া অধিদফতর ১০ দিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়। তবে জুন-সেপ্টেম্বর মাসে এক মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও বাংলাদেশের মতো ১০ দিন আগে আবহাওয়ার প্রতিবেদন দেওয়া হয় বলে জানান পরিচালক।
উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে জানিয়ে পরিচালক বলেন, প্রকল্পের আওতায় ২২৫টি স্থানে আবহাওয়ার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যন্ত্রগুলো চালু হলে বাংলাদেশও আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিতে পারবে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানান পরিচালক।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, নাসির উদ্দিন এবং নাহিদ ইজাহার খান।