বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে এ খাতের উন্নয়নে একক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী বলেন, দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এমওইউ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যৌথ কমিটি গঠন করে সাংস্কৃতিক পর্যটনের জন্য একক নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এমওইউ সইয়ের মাধ্যমে দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বিতভাবে কাজ করার একটি কাঠামো তৈরি হবে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কয়েক দিন আগে মালয়েশিয়া সফরে দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পর্যটনের সঙ্গে সংস্কৃতিকে যুক্ত করে কাজ করার পদ্ধতি দেখেছেন। বাংলাদেশেও এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ি, কক্সবাজারের বৌদ্ধ নিদর্শন ও ময়নামতীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোকে পর্যটনকেন্দ্রিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত আগ্রহী উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পর্যটন খাত থেকে দেশের জিডিপিতে ২ থেকে ৩ শতাংশ অবদান পাওয়া যায়। দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ অবদান ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য—জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করা—তা সম্ভব হবে। আজকের উদ্যোগটি এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুফল বয়ে আনবে।
সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে নিজেদের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও মালদ্বীপ তার উদাহরণ। পর্যটন ও সংস্কৃতি পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে দুই মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করতে চায়। দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে যথাযথভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।









