বাবু এবার সমুদ্র দেখতে যাবে, ভারি শোরগোল পড়ে গেল বাড়িতে। তবে সমুদ্রের চেয়েও বড় কথা—যাবে প্লেনে চড়ে।
তার এ পর্যন্ত সবকিছুতে ঘোরাঘুরি হয়েছে, সবচেয়ে বেশি চড়েছে ট্রেনে। রাজশাহী থেকে প্রায়ই সাত সকালের তিতুমীর এক্সপ্রেসে নানু বাড়ি আক্কেলপুর যাওয়া হতো। ফার্স্ট ক্লাসের আটজনের কামরায় টিকেট কাটতো মা, বাবু বসতো জানালার পাশে; বসতো না বলে দাঁড়াতো বলাই ভালো। পুরো রাস্তা বাবু দাঁড়িয়ে থাকতো জানালার কাচে মুখ চেপে। ট্রেনের সাথে সাথে উল্টোদিকে ছুটছে যতো আমবাগান আর আপেল কুল, ফসলের মাঠ, আত্রাই নদী, জেলেনৌকা আর যেসব স্টেশনে থামতো না ট্রেন সেই প্লাটফর্মগুলো। বাইরে দেখার উত্তেজনায় বাবুর বসাই হতো না।
ট্রেনের সমান্তরালে উড়ে চলা লম্বা লেজের ফিঙেদের দেখিয়ে মা চেঁচিয়ে উঠতো, বাবু! দেখো দেখো ফিঙে পাখি! বাবুও আঙুল উঁচিয়ে: পাখি পাখি! কী পাখি বলোতো? চুড়ুই পাখি।
আত্রাই নদী এলে মা বলতো, দেখো দেখো, নদী।
বাবু : নুদী নুদী!
শান্তাহার জংশন পেরোলে মা টেনশনে পড়ে যেতো, আর দুই স্টেশন পরে আক্কেলপুর; নামতে হবে।
কামরার অন্য যাত্রীদের কানতো মা ইতোমধ্যে ঝালাপালা করে দিয়েছে, 'নামার সময় প্লিজ আমাদের সাহায্য করবেন' বলে বলে। সমস্বরে সবাই বলতো, ভাববেন না, আমরা আছি। হলহলিয়া ব্রিজে উঠলে ট্রেনের শব্দ বদলে গিয়ে কেমন একটা গমগম করতো, মা তক্ষুনি বাবুকে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতো আর ব্যাগ-বোঁচকা হাতে সাহায্য করতো কমপক্ষে তিনজন সহযাত্রী। আক্কেলপুরের প্লাটফর্মে পা রেখে তারপর মা যেন প্রাণ ফিরে পেতো, নামা গেছে, বাবু ট্রেনে রয়ে গেল আর ট্রেন ছেড়ে দিলো এমনটি হয়নি।
ঢাকা থেকে আক্কেলপুর কোচ অথবা মাইক্রোবাসে যাওয়া হয়েছে বারকয়েক। আর লঞ্চেও বাবু গেছে কুয়াকাটা। জানুয়ারির শীতে রাত দশটা অবধি বাবু কেবিনের বাইরে চেয়ারে বসে নদী দেখছিল, কি জানি রেলিং টপকে পানিতে পড়ে যায় কিনা এই ভয়ে মাকেও নাতিশীতোষ্ণ সাজানো শয্যা ফেলে জুবুথুবু হয়ে বাইরে থাকতে হয়েছে।
জল, স্থল শেষ, এবারে আকাশ যাত্রা! মায়েরতো মহা চিন্তা! বইয়ের যতো প্লেনের ছবি বাবুকে দেখানো হচ্ছে। স্কুল থেকে ফেরার সময় মাঝে মাঝেই একটা প্লেন যায়, মৃদু আওয়াজ পাওয়া মাত্র মা: বাবু, আকাশে তাকাও, আকাশে তাকাও।
বাবু: আকাশ নীল (আকাশে না তাকিয়েই), শাদা মেঘ!
মা: কিসের শব্দ! উপরে তাকাও, দেখো-ও-ও!
বাবু এবার দেখতে পেয়েছে: প্লেইইইন!
হুমম! আমরা এই প্লেনে চড়ে কোথায় যাবো, বলো!
বাবু: কসবাজা! (কক্সবাজার)
এই মহড়া চলতে লাগলো।
টিকেট কাটা হলো নভোএয়ারে রিটার্নসহ। ইউএস-বাংলা নেপালে পড়ে গেল, কাজেই মা তো এটা নেবে না। তবে বাবুর যে সুবর্ণ নাগরিকের কার্ড আছে, সেটা দিয়ে নাকি এক তৃতীয়াংশ বা কিছু টাকা কম লাগার কথা, তার কোনো লক্ষণ দেখা গেল না, বিশেষ শিশু হিসেবে এয়ারপোর্টে বিশেষ কেয়ার নেয়া হবে, নভোএয়ার কর্তৃপক্ষ এটুকু জানালো। এবারই শুধু মা আর বাবু দুজন মিলে বেড়াতে যাচ্ছে, পৃথিবীর পথে যাত্রার প্রথম ধাপ!
ক্ষণে ক্ষণে মায়ের মাথায় চিন্তারা বিশেষত দুশ্চিন্তারা আসা যাওয়া করছে। কে জানে সি বিচে ছিনতাইকারী ওঁৎ পেতে আছে হয়তো, বাবুকে নিয়ে পানিতে নেমে চোরাবালির খপ্পরে না পড়ি, হোটেলে বজ্জাত লোকজনের আনাগোনা আছে কিনা, কিডন্যাপার দল কোথায় কি ফন্দি আঁটে তারই বা ঠিক কি! এ যেন শ্বাপদসংকুল অরণ্য!
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন বন্ধু মাহবুবকে মনে পড়লো মার। মাহবুব জানালো, কোনো টেনশন করো না, আমার অফিসের গাড়ি তোমাদের এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে পৌঁছে দেবে।
অনেক গবেষণা করে হোটেল ঠিক করা হলো ডিভাইন ইকো রিসোর্ট, কলাতলী বিচে। মায়ের ফ্রেন্স ক্লাসের বন্ধু স্নিগ্ধা সরেজমিনে দেখে বুকিং সম্পন্ন করলো।
তারপর ব্যাগ গুছিয়ে এক শুভ সকালে মা ও বাবু বেরিয়ে পড়লো আকাশে উড়বে বলে। এয়ারপোর্টের কাছাকাছি এসে মা ফোন দিলো নভোএয়ারকে। তারা জানালো প্রবেশপথে রিসিভ করার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। মা দ্যাখে, গেটের মুখে সত্যি সত্যিই দাঁড়িয়ে আছে বাবুর জন্য হুইলচেয়ার নিয়ে। মা হাসলো, আর বাবু গটগট করে ঢুকে গেল। তারপর লাগেজ চেক করে ওরা একটা ট্যাগ লাগালো, ভিআইপি লেখা। এবার বেশ মজা পেল মা, তার ছেলে ভিআইপি!
এখন অপেক্ষা করতে হবে মিনিট বিশেক। বাবুর পাশে এক ভদ্রলোক বসে আছে কানে হেডফোন লাগিয়ে। ফাঁকে ফাঁকে ফ্রুটিকা খাচ্ছে, চোখের পলকে বাবু ছোঁ মারলো, মা তো হাঁ হাঁ করে উঠলো। কিন্তু বাবু ফ্রুটিকা নেয়নি, আধখাওয়া পানির বোতল ছিল, সেটি নিয়েছে। তখন মনে পড়লো মার, পানির বোতল আর বিস্কুটের ছোট্ট থলে বাসায় রয়ে গেছে। বাবু পানি খাচ্ছে মনের সুখে আর মার মনের অলিগলিতে ছোঁয়াচে রোগ জীবাণু উঁকি মারতে লাগলো। সচকিত হয়ে মা ভদ্রলোককে ব্যাখ্যা দিতে গেল যে, বাবু বিশেষ শিশু। তিনি হেসে বললেন, 'বোন, আপনি নিজেকে একা ভাববেন না। আমাদের পরিবারেও এমন বাচ্চা আছে।' মার দুচোখ প্রায় ভিজে এলো সমবেদনার সুর পেয়ে। পার্সের মধ্যে দুটো চকলেট পেয়ে বাবুকে দিলো মা।
বাবু: মা! পোলা, পোলা!
বলে কী? মা চোখ ছানাবড়া করে দ্যাখে কয়েক গজ দূরের চেয়ারে বসা লোকজন পোলাওয়ের প্যাকেট খুলছে। সোয়া সাতটা বাজে ঘড়িতে, এই সাতসকালে মানুষ পোলাও খায়? এখন বাবু বায়না ধরবে কিনা, মা উদ্বিগ্ন। ছটায় বাবু কিছুই খেতে রাজি হয়নি বাসা থেকে বেরোনোর আগে।
মা: ঠিক আছে, বাবু, আমরা কক্সবাজার গিয়ে পোলাও খাবো।
প্লেনের সময় হয়ে এলো। ভিআইপি বাবু ও মায়ের জন্য নভোএয়ার একটি গাড়ি এবং বাকি যাত্রীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করেছে। প্লেনের সিঁড়ির ধাপে পা দিতে বাবু প্রথম একটু দ্বিধা করছিলো, তারপর স্বচ্ছন্দে উঠে গেল। সিটে বসে বেল্ট বেঁধে সবাই রেডি। প্লেন ডানা মেললো। দেখতে দেখতে মেঘের মুলুকে, চারপাশে নীল আর নীল, বাবু দেখছে, আর মা সর্ব ইন্দ্রিয়যোগে পর্যবেক্ষণ করছে, এই বুঝি বাবুর বমি বমি লাগছে, কানের টিম্প্যানিক মেমব্রেনে প্রেশার ফিল করছে বুঝি নাকি মাথা ধরে যাচ্ছে কিংবা প্লেনে ওঠার কি কি সাইড ইফেক্ট ছিল আর ইত্যাদি।
সব শংকার অবসান ঘটিয়ে নিরাপদে কক্সবাজার এয়ারপোর্টে নেমে পড়লো মা আর বাবু। সিভিল সার্জনের গাড়ি অপেক্ষা করছিল, মাহবুব ফোনে মাকে চায়ের আমন্ত্রণ জানালো, যেন তার অফিস হয়ে ডিভাইন ইকোতে যায়। তথাস্তু। মেডিকেল কলেজ ছেড়ে আসার বহুবছর বাদে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক হিসেবে মাহবুবকে দেখছে মা। কলেজ জীবনের সেই লাজুক, নরম স্বভাব মাহবুব এখন চটপটে, বাকপটু, প্রতাপশালী। আর সেই সময়ের ব্যাচে ফার্স্ট হওয়া, উচ্ছল, উজ্জ্বল মেয়েটি এখন শংকিত, তটস্থ এক পক্ষীমাতা, ডানার আশ্রয়ে ছানাটি লুকিয়ে হিংস্র বাজপাখির নখর থেকে বাঁচানোর চেষ্টায় ব্যাকুল।
বসো, বসো, এ্যাই, চা বিস্কুট, চানাচুর দাও ওদেরকে। আংকেল, কেমন আছো? মাহবুব ব্যস্ত হয়ে পড়লো। একটু পরে মিটিং শুরু হবে।
বাবু! এটা নতুন মামা, সালাম দাও।
কথার ফাঁকে চা-বিস্কুট এলো। বাবু তো খায় না, একটু অস্থির! কী হলো বাবু?
মা! চা-চু!
মাহবুব: হ্যাঁ, আংকেল, আমি চাচ্চু। তুমি বিস্কুট খাও।
'তোমাকে বলেনি মাহবুব। চানাচুরকে বলছে, বাবুর খুব পছন্দের এটা। তুমি চা-বিস্কুট, চানাচুর দিতে বলেছিলে। ওরাতো চা-চু ভুলে গেছে, বাবু ভোলেনি।' চানাচুর এলো।
তারপর বাবুরা চলে এলো ডিভাইন ইকো রিসোর্টে ১০২ নম্বর বিচ ভিলাতে।
বিচ ভিলা মানে একেবারে বিচের কাছে। জানালার পর্দা সরিয়ে বিছানায় বসেই সাগরের দেখা মেলে, সাদা ফেনার মুকুট মাথার পড়ে ছুটে আসছে ঢেউ।
খাবারের জন্য রেস্টুরেন্ট আছে দুই তলা। কিন্তু সবাই বাগানে বসেই খেতে পছন্দ করে। মা প্রথম ভাবলো, রুমে খাবার দিতে বলে, তারপর মনে হলো তাহলে বাবু সবসময়ই রুমে খেতে চাইবে। বাবুকে পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শেখানোর প্রথম ধাপ হিসেবে এবারের কক্সবাজার আসা। তাই মা রেস্টুরেন্টে অর্ডার দিলো তাদের খাবারটিও বাগানে পরিবেশনের জন্য।
বাবু রুমে খাবার আসছে ভেবে নিশ্চিন্তে শুয়ে ছিল। এখন খানিকটা গাঁইগুঁই করে অবশেষে বেরুতে রাজি হলো। খাবারের জায়গাটা নারিকেল গাছের সারির নিচে, পাঁচটি টেবিল পাতা হাত দু-একের ব্যবধানে। পাশেই নীল সাগর। হাওয়ায় ঢেউ ভাঙার শব্দ। কমলা রঙের রিসোর্টের দেয়াল। স্বপ্নময় জগৎ এক।
চার চেয়ার এর এক টেবিলে বসলো মা বাবু। অর্ডার ছিলো চিকেন চিলি উইথ টমেটো সস, ফ্রাইড রাইস আর প্লেন নান। খাবার এলো, নানের কথা ভুলে প্লেন রাইস দিয়েছে। এক কোণে বাঁশের মাচা, উপরে চৌচালা। কিন্তু খাবার টেবিলে আসার সাথে সাথে সুশৃঙ্খলভাবে কোথা থেকে কাক বাহিনী এসে নারিকেল গাছের থাকে থাকে দাঁড়িয়ে গেল। শুরু হয়ে গেল কাকের কোরাস। সেতো মাথার উপর, এদিকে টেবিলের পায়ের কাছে আসন নিলো আবুর কুকুর বাঘা কিংবা ভুলু, টমি গোছের দুজন।
বাবুতো বাবু, মায়ের পিলে চমকে গেল। অবশেষে মা-বাবু ভিলায় ফিরে গেল, ওয়েটার খাবার গুটিয়ে রুমে দিয়ে গেল।
কুকুর ডাক ছেড়ে হয়তো বা প্রতিবাদ জানাতে লাগলো। কাকেরা বেশি কিছু বললো না। বাবু ঘরের মধ্যে নিশ্চিন্তে খেতে শুরু করলো আর হেসে হেসে ওরই মাঝে বললো, 'মান্নান মিয়ার খানামে (খামারে)
আছিল আছিল (আছে আছে) কুকু! (কুকুর)
কুকু করে ঘেউঘেউ, ইলা ইলা ও! (ইয়া ইয়া ও)!'
বিকেলে স্নিগ্ধা এলো, সব শুনে জানালো, বাইরে একটা রেস্টুরেন্ট আছে ধান শালিক। কাল ওখানে যাবো আমরা। মা ভাবলো, বেশ, আজ কাক, কাল ধান শালিক। পরে দেখা গেলো, ধানশালিকে আবুর কুকুর বাঘা নেই, কিন্তু মিনুর বিড়াল মিনি এসে হাজির!
ডিমের কুসুমের মতো সূর্য লুকিয়ে যাচ্ছে ওই দূরে, দিকচক্রবালে। মা আর বাবু হাত ধরাধরি করে পায়ে পায়ে পানিতে নামছে। মা বিচে হাঁটার স্যান্ডেল কিনেছে বাবুর জন্য, খুব অখুশি হয়ে পায়ে দিয়েছে বাবু। হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে রইলো দুজন, ঢেউ আসছে আরেকটু উঁচু হয়ে, ভিজিয়ে দিয়ে তীরে মিশে যাচ্ছে। ঢেউয়ের ধাক্কায় দুজনায় টলোমলো, বাবু হেসেই খুন। মার যে কী আনন্দ, বাবুর হাসির মুক্তোদানা যেন বেদনার্ত ঝিনুকের মুক্তোয় স্নিগ্ধতার প্রলেপ। চারপাশে কতো মানুষ, এই আনন্দের, এই ভালোলাগার সাথে একাকার।
কেউ কেউ ঢেউয়ের উপর শুয়ে পড়ছে, আরো ভেতরের দিকে গেছে অনেকেই। হঠাৎই মা দ্যাখে কার যেন স্যান্ডেল ভেসে যাচ্ছে, দুটো স্যান্ডেল, বেশ খানিকটা চলে গেছে। আরে! এটাতো বাবুর! বাবু দেখি দেখি! সত্যিতো খালি পায়ে সে। যখন পায়ের নিচে বালি সরে যায়, তখন বাবু স্যান্ডেল খুলে ফেলেছে। তারপর মা আর স্নিগ্ধা সমস্বরে চিত্কার, ‘আমাদের স্যান্ডেল, আমাদের স্যান্ডেল।’ সবাই পানিতে ঢেউ দিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্যান্ডেল বাবুর কাছে পাঠালো।
সেদিন পূর্ণিমা, রূপালি আলোয় নারিকেল বিথী ঘেরা ইকো রিসোর্ট যেন রূপকথার রাজপুরী! যেখানে মায়ের সাতরাজার ধন রাজপুত্র নীলকমল আছে, পার্থিব কোনো মলিনতা যাকে ছুঁতে পারে না কখনও। বিচের ছাতার নিচে পাতা বিছানা তিনঘণ্টার জন্য বরাদ্দ নেয় মা। নিশ্চিন্তে শুয়ে বসে থাকে তারা, ছাতার ফাঁকে চাঁদের আলো চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামে বাবুর মাথার চুলে, শাদা দাঁতে, উজ্জ্বল কালো চোখে আর দুহাতের কালো দাগে। সাগরের নুনে ভেজা ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায় যেন নীল ছাতা আর মায়ের যতো বিষন্নতা।
সাগর আর আকাশের সাথে থাকতে থাকতে যেন পলকেই ঢাকায় ফেরার দিন আসে। তারপর ঢাকা শহরের রুটিনে ঢুকে পড়ে বাবু আর মা। তবে পোশাকের ফাঁকফোকর গলে চলে আসা বালুকণা আরো সপ্তা দুয়েক সাগরের নীল স্মৃতি জীবন্ত করে রাখে।
বাবু তো খুশি, কিন্তু মাকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। হেলথ কেয়ার ল্যাবের চাকরিটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় মা। একদিন বেশি ছুটি কাটিয়েছিল মা, যদি কোনো আত্মীয়র মৃত্যু বা অসুস্থতা বা অন্য যেকোনো অজুহাত হয়তো বিবেচনা করতো কর্তৃপক্ষ, কিন্তু ছুটির কারণ যদি হয় বিশেষ শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া, এটার তেমন গুরুত্ব তারা খুঁজে পায় না।