ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে এবং মার্কিন ডলার ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক দ্রুত নামতে শুরু করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউরোপের বাজারগুলো ব্যাপক পতনের মুখে পড়ে। এর আগে এশিয়ার বাজারে বড় ধরনের বিক্রয়চাপ দেখা যায় এবং ওয়াল স্ট্রিট খোলার আগেই মার্কিন ফিউচার সূচকগুলোর পতনের ইঙ্গিত দেয়।
বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩ এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। তবে ইউরো সূচক ১ দশমিক ৫ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দর শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, নিউজিল্যান্ড ডলার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, জাপানের ইয়েন তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চে শক্তিশালী হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রতি ডলারে ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী স্তরে গিয়ে ১ ডলারের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৮৬৫৫ হয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন কমেছে ৭৬০ বিলিয়ন বা ৭৬ হাজার কোটি ডলার। অ্যাপলের আইফোনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় চীনে। ফলে অ্যাপলের শেয়ারের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি বা ৭ শতাংশ। এ ছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ; এফটিএসই ফিউচার্স কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ; ইউরোপিয়ান ফিউচার্স কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।
দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব ধরনের বাজারেই প্রভাব পড়েছে। সোনার মূল্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের শেয়ারবাজার বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগের দিন চাঙা ছিল এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো। লাভের মুখ দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফটি।
কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাল্টে যায় সব চিত্র। বিশ্ববাজারে সোনার দামেও প্রভাব পড়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোনার দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। আউন্স প্রতি ৩ হাজার ১৬০ ডলারে উঠে গেছে।
শুধু সোনা নয়, প্রভাব পড়েছে তেলের দামেও। অপরিশোধিত তেলের ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।