যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ও অন্যান্য ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পরীক্ষা করতে বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রশাসনের সমালোচকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। বুধবার (২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৫ মার্চ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো দীর্ঘ এক বার্তায় রুবিও এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
এই সিদ্ধান্ত আসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরের নয় সপ্তাহ পর। সেই আদেশের মাধ্যমে কিছু বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করার অভিযান শুরু হয়। এর যার মধ্যে ‘মার্কিন নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠার মূলনীতির প্রতি বৈরী মনোভাব’ থাকতে পারে-এমন ব্যক্তি রয়েছেন।
ট্রাম্প আরও একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে তিনি ‘বিরোধী মনোভাবসম্পন্ন’ বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করতে বলেন, বিশেষ করে যারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরোধী বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
রুবিওর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কিছু শিক্ষার্থীর ভিসার আবেদন পাঠানো হয়েছে প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিটের কাছে। বিশেষ এই ইউনিট ওই শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপরতা যাচাই করবে। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ইহুদিবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত মিললে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
প্রতারণা প্রতিরোধ ইউনিট সাধারণত দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কনস্যুলার শাখার অংশ, যা ভিসা আবেদনকারীদের স্ক্রিনিং করতে সহায়তা করে।
বার্তায় কূটনীতিকদের ভিসা বাতিলের মানদণ্ড সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সিবিএস নিউজে ১৬ মার্চ দেওয়া রুবিওর এক সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের দেশে এমন কাউকে চাই না, যারা অপরাধ করবে বা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। এটা খুবই সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে যারা অতিথি হিসেবে আমাদের দেশে আসে, কারণ ভিসা হলো অতিথি হয়ে থাকার অনুমতি।’
বার্তায় আরও বলা হয়েছে, যে ধরনের আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে, তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সহানুভূতিশীল বলে সন্দেহ করা হয়। যারা ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে শিক্ষার্থী বা এক্সচেঞ্জ ভিসা পেয়েছিল। যাদের ভিসা ওই সময়ের মধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
রুবিওর নির্দেশনায় নির্ধারিত তারিখগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, এই সোশ্যাল মিডিয়া তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব শিক্ষার্থী যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, তাদের আবেদন বাতিল করা।
বার্তায় আরও বলা হয়েছে, যেসব আবেদনকারীর আচরণ বা কর্মকাণ্ড দেখাবে যে তারা ‘মার্কিন নাগরিক বা মার্কিন সংস্কৃতির (সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠার মূলনীতি) প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে’, তাদের ভিসা বাতিল করা হতে পারে।
বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারি করা হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবে উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৯ সালে মার্কিন সরকার ভিসা আবেদন ফর্ম পরিবর্তন করে আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়ার নিয়ম চালু করেছিল।