ইউক্রেনে শান্তি চুক্তি কার্যকর থাকাকালীন একটি ইউরোপীয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার তিনি বলেছেন, রাশিয়া আক্রমণ চালালে এই বাহিনী জবাব দেবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার পর এ কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার প্যারিসে ৩০টির বেশি দেশের শীর্ষ সম্মেলনে এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইউক্রেনে যদি আবার ব্যাপক আগ্রাসন চালায়, তাহলে এই বাহিনী আক্রান্ত হবে এবং আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। আমাদের সেনারা যখন মোতায়েন থাকবে, তারা কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তিনি জানান, এই বাহিনী যুদ্ধের ময়দানে নয়, বরং কৌশলগত শহর ও ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হতে পারে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথভাবে এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে ম্যাক্রোঁ। তাদের লক্ষ্য, ইউক্রেনে একটি বহুজাতিক বাহিনী পাঠিয়ে রাশিয়াকে ভবিষ্যৎ আগ্রাসন থেকে বিরত রাখা। তবে রাশিয়ার আক্রমণে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, তা স্পষ্ট করেননি ম্যাক্রোঁ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ এলিসি প্রাসাদে ৩১টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হবে। গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সম্মেলনের চেয়ে এতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি, যা এই জোটের প্রতি বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
এই আলোচনায় অনুপস্থিত থাকছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে এই ধারণাকে সরল বলে উল্লেখ করেছেন।
জেলেনস্কি বলেছেন, বহুজাতিক বাহিনী যুদ্ধ প্রশিক্ষণ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। ইইউ ইতোমধ্যে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে বিশেষ কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ব্রিটেনও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ফ্রান্সের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,ডিনিপার নদীর তীরে যুদ্ধ এলাকা থেকে দূরে একটি বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, এই বাহিনীতে ১০ থেকে ৩০ হাজার সেনা থাকতে পারে।
ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনকে ২ বিলিয়ন ইউরোর সামরিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন, যাতে হালকা ট্যাংক, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে।