ভারত সরকার মুসলিমদের ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পার্লামেন্টে নতুন বিল উত্থাপন করেছে। বুধবার (২ এপ্রিল) উত্থাপিত এই বিল নিয়ে সরকার ও সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ওয়াকফ হলো ইসলামি আইনে এমন সম্পত্তি যা ধর্মীয়, শিক্ষামূলক বা দাতব্য কাজে দান করা হয়েছে। এই সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করা যায় না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতজুড়ে ২৫টি ওয়াকফ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ৮ লাখ ৫১ হাজার ৫৩৫টি সম্পত্তি এবং প্রায় ৯ লাখ একর জমি।
নরেন্দ্র মোদি সরকারের উত্থাপিত ওয়াকফ (সংশোধনী) বিলে প্রধান দুটি প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল ও রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য নিয়োগ এবং বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণে সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি উত্থাপন করে বলেন, এটি দুর্নীতি দূর করবে এবং ওয়াকফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। আমরা এটিকে মুসলিমবান্ধব সংস্কার হিসেবে দেখছি।
বিলটি পাস হওয়ার বিষয়ে বুধবার লোকসভায় ভোটাভুটি হবে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাসকদল তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিলটি পাস করাতে সক্ষম হবে। তবে এ নিয়ে আইনি লড়াই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের কর্মকর্তা কামাল ফারুকি বলেন, হিন্দু মন্দির কমিটিতে কি মুসলিমদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হবে? এটি মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হস্তক্ষেপ মাত্র।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইটারে লিখেছেন, এটি সংখ্যালঘুদের অধিকারে হস্তক্ষেপের আরেকটি চেষ্টা।
২০০৬ সালের সরকারি সাচার কমিটি রিপোর্টে ওয়াকফ বোর্ড সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ ভারত হবে বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিম জনসংখ্যার দেশ। মুসলিমরা ভারতের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ। কিন্তু শিক্ষা ও চাকরিতে জাতীয় গড়ের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে বেশ কয়েকটি ওয়াকফ সম্পত্তি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ২০১৪ সালে মোদির দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইসলামবিরোধী নীতি ও সহিংস তৎপরতা বাড়ছে। তবে মোদি ও তার দলের কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।