ভারতের গোয়া রাজ্যে এক রিসোর্টে আইরিশ পর্যটককে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। অপরাধ সংঘটনের প্রায় আট বছর পর সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলো। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই নিউজকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফিলোমেনো কস্তা জানিয়েছেন, আজ আদালত চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় আইরিশ ওই নারীর বয়স ছিল ২৮ বছর। ভারতীয় আইনের আওতায় তার নাম জনসম্মুখে প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চে গোয়ায় বেড়াতে এসে ভিকাট ভাগাত নামের এক ভারতীয় সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এই ব্যক্তিই পরে নিজ বান্ধবীকে ধর্ষণ ও হত্যা করে।
নিহত নারীর আইনজীবী বিকাশ ভার্মা জানিয়েছেন, পালোলেম সৈকতের জংলা এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার চেহারাসহ দেহজুড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে ভার্মা বলেছেন, সন্তান হারানোর কষ্ট কোনও কিছুর বিনিময়েই লাঘব হওয়া সম্ভব নয়। তবে আদালতের রায়ে নিহতের পরিবার হয়ত কিছুটা সান্ত্বনা পেতে পারে। প্রায় আট বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে ন্যায়বিচার পাওয়া গেল।
সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত ভাগাতের আইনজীবীরা চূড়ান্ত রায়ের আগে কিছুটা নমনীয়তার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে তাদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে রয়টার্স।
২০১২ সালে দিল্লির এক গণপরিবহনে এক নারীকে নৃশংসভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার পর ধর্ষণের অপরাধে কঠোর আইন প্রণয়ন করে ভারত। তবে এক দশকের বেশি সময় পার হলেও পরিস্থিতির আপাত কোনও উন্নতি হয়নি।
সম্প্রতি কলকাতায় এক চিকিৎসককে শিফট চলাকালে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আবারও উত্তাল হয়ে পড়ে দেশটি। গত মাসে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পুলিশের এক সাবেক স্বেচ্ছাসেবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।