রাশিয়ায় ইউটিউবের ধীর গতি ও সেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ চলচ্চিত্র কর্মকর্তা কারেন শাখনাজারভ সমস্যাটি পুতিনের নজরে আনেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইউটিউবের ধীরগতির জন্য দায়ী রুশ আইনের প্রতি গুগলের অবহেলা। প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
গুগল তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউটিউবের ধীরগতির পেছনে রুশ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যমূলক ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা সমালোচকদের। তাদের দাবি, পুতিন ও তার সরকারের জন্য সংবেদনশীল বিভিন্ন তথ্য থেকে রাশিয়ানদের দূরে রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিয়া বলেছে, গুগলের অনুন্নত যন্ত্রপাতির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। গুগল ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রুশ ইন্টারনেট সেবা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে দেশটিতে ইউটিউব পরিষেবায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। তবে দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রস্কোমনাডজর শুক্রবার দাবি করে, ইউটিউবের সেবার মানে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডিয়াস্কোপের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি রুশ নাগরিক ইউটিউব ব্যবহার করেন।
পেসকভ বলেছেন, ইউটিউবের ধীরগতির বিষয়টি রাশিয়ার বর্তমান অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। তবে মোসফিল্মের প্রধান কারেন শাখনাজারভ বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, ইউটিউব ধীর করার বিশেষ প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে ইউটিউবে অনেকরকম নেতিবাচক কন্টেন্ট রয়েছে বলে উদ্বিগ্ন প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়ায় গুগলসহ বিদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো কয়েক বছর ধরে চাপের মুখে রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে তথাকথিত ভুল তথ্য প্রচারের কারণে গুগলকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
শাখনাজারভ বলেছেন, ইউটিউবে খারাপ বিষয়বস্তু রয়েছে। তবে সেগুলি দেখতে চাইলে বিধিনিষেধ এড়ানো যায়। কিন্তু অনেকেই শুধু সিনেমা ও অন্যান্য বিষয়বস্তু দেখার জন্য প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করেন। প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্য শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাশিয়ায় ইউটিউব কেবল বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং সরকারবিরোধী কণ্ঠ ও স্বাধীন মতপ্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই ইউটিউবের সেবা বিঘ্নের সাম্প্রতিক ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।