শাহজাহান সম্রাট এমন একজন অভিনেতা যিনি খরগোশ-দৌড়ে বিশ্বাস করেন না, বরং কচ্ছপের গতিতে চলতে পছন্দ করেন। হাতে কাজ নেন খুব সচেতনভাবে, বেছে বেছে। মঞ্চ দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু, তবে এখন পুরাদস্তুর পর্দার অভিনেতা। কখনও ওয়েবে, কখনও বড় পর্দায় হাজির হন। তথাকথিত তারকা তকমার বাইরে গিয়ে তিনি পরিচিত ‘অভিনেতা’ হিসেবে। জানান, এতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
সম্প্রতি শঙ্খ দাশগুপ্তের পরিচালনায় সম্রাট অভিনীত ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে প্রেক্ষাগৃহে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। উৎসব আর প্রেক্ষাগৃহ পেরিয়ে এখন সেটি চলছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। সিনেমাটি দেখে দর্শক-সমালোচকরা সম্রাটের প্রশংসা করছেন বেশ।
সেই প্রসঙ্গ টেনে সম্রাট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমার একশ্রেণির দর্শক তৈরি হয়েছে। একটা সময় পর্যন্ত কাজ করতাম শুধু নিজের প্রয়োজনে। এখন আমি নিজের তো বটেই, দর্শকের জন্যও কাজ করি। দর্শক আমাকে যেভাবে, যেসব চরিত্রে দেখতে চান, আমি তেমন চরিত্রেই কাজ করতে চাই। এসব কারণেই, ‘প্রিয় মালতী’র পর আমি কোনও সিনেমা সাইন করিনি এখনও। কারণ, আমি দৌড়াতে চাই না। সময় নিয়ে, বেছে বেছে, নিজের ও দর্শকের কথা মাথায় রেখে কাজ করতে চাই।’’
এরপর সম্রাট আরও গভীরে ঢোকেন, নিজের সম্পর্কে। বললেন, “আসলে আমি চাই আমার চরিত্রের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলো দর্শক নোটিশ করুক। কারণ চরিত্রের ডিটেইলস যখন দর্শক দেখবেন, তখনই তারা একজন সত্যিকারের অভিনেতার খোঁজ পাবেন। আমার মনে হয় ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমায় এটা ঘটেছে। আমার চরিত্রের প্রত্যেকটা মুভমেন্ট দর্শক প্রত্যক্ষ করেছেন এবং অভিনয়ের প্রশংসাও করেছেন।”
‘প্রিয় মালতী’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। লম্বা ক্যারিয়ারে এটা তার প্রথম সিনেমাও। আপনার কি মনে হয় না, সবটুকু আলো তিনি কেড়ে নিয়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে সম্রাট বলেন, ‘দেখুন, আগেও আমি বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছি। আমাকে বরং এটি আরও বেশি অভিজ্ঞ করেছে। আর আমি মনে করি, প্রত্যেক অভিনেতাই আলো ছড়ান তার নিজের দক্ষতায়। তাই কেউ কারও আলো কেড়ে নিতে পারে না। বরং স্টারদের সঙ্গে কাজ করলে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতনতা বাড়ে যে আমাকেও তাদের মতো ভালো কাজ করতে হবে।’ ‘প্রিয় মালতী’র আগে শাহজাহান সম্রাট সবার নজরে এসেছেন অমিতাভ রেজার ওয়েব সিরিজ ‘বোধ’ দিয়ে। তারও আগে সিনেমায় অভিষেক হয় নূরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমা দিয়ে। এরপর মুক্তি পায় নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘চিরঞ্জীব মুজিব’। প্রতিটি কাজেই প্রশংসা পান এই অভিনেতা। বিস্ময়ের বিষয়, এত সব প্রশংসিত কাজের পরেও অভিনেতার সাম্প্রতিক সময় কাটছে অপেক্ষায়। এই অপেক্ষা ভালো চিত্রনাট্যের।
অভিনেতা বলেন, ‘আমি আসলে ভালো গল্পের জন্য অপেক্ষা করছি। প্রস্তাব আসলেই করতে পারি না এখন আর। কারণ ওই যে বললাম, এখন নিজের কাজ নিয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল হয়েছি আমি। আশা করি খুব দ্রুতই ভালো কাজ নিয়ে আসবো। আমি দৌড়াতে চাই না। আর আমি কারও সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই না। কে আমার চেয়ে এগিয়ে গেল, কে বেশি কাজ করলো এসব আমাকে ভাবায় না। আমি আমার কাজে সবসময় ডুবে থাকি। যে কারণে আমি কাউকে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীও মনে করি না। আমি নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী।’ শাহজাহান সম্রাট ২০০৪-২০০৭ সাল পর্যন্ত নাট্যদল পালাকারের সঙ্গে কাজ করছেন। পরবর্তীকালে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তবে তার মতে, মঞ্চ সবসময় তার কাছে বিশেষ হয়ে আছে, থাকবে।
মঞ্চে ফিরতে ইচ্ছে করে কিনা জানতে চাইলে সম্রাট বলেন, ‘মঞ্চ আমাকে সবসময়ই ভীষণভাবে টানে। তবে আমি এখন স্ক্রিনেই বেশি সময় দিতে চাই। এখানে কাজ করতে চাই মনোযোগ দিয়ে। কখনোই মনে করি না আমি মঞ্চ থেকে দূরে আছি। অদূর ভবিষ্যতে কাজ তো করবোই। এমনও হতে পারে আমি মঞ্চে নির্দেশনা দেবো। তবে সেটা পরের ব্যাপার। এখনই বলতে চাই না এটা নিয়ে কিছু।’
সম্প্রতি এই অভিনেতা আবরার আতাহারের পরিচালনায় একটি ওভিসির কাজ শেষ করেছেন। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার দুটি সিনেমা ‘বিলডাকিনি’ ও ‘রঙবাজ’।