নিজের ব্যস্ততা আর অপরাগতার কথা জানিয়ে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩’-এর সদ্য গঠিত জুরি বোর্ড থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই অভিনেতাকে এবার পাওয়া গেলো রাজপথে, আন্দোলনে!
এবার তিনি সংহতি জানিয়েছেন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি নিয়ে আন্দোলনরতদের সঙ্গে। মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে রাজপথে নেমে এই অভিনেতা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন দেশ গড়ার পরও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ৩৫ দাবিতে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে এমনটা আশা করিনি।’
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার আন্দোলনে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে তিনি এসব কথা বলেন।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি, আশা করেছিলাম সেখানে কোনও বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের সন্তানদের দাবি আদায়ে আজ বৃষ্টিতে ভিজে এখানে দাঁড়াতে হচ্ছে। এদের সঙ্গে যখন আমার যোগাযোগ ছিল না, আমি তখনও বলেছি কারও যদি চাকরির বয়স এক বছর বাকি থাকে এবং তার যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে সে চাকরিতে প্রবেশ করতে পারবে। এখানে কাউকে বয়সের গণ্ডিতে বাঁধা যাবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের সন্তানদের বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। আমরা আশা করবো, তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হবে।’ প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ৩৫ করার দাবি মেনে নিন। কারও যদি চাকরির বয়স এক বছরও বাকি থাকে, তাহলেও সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। কারণ আমি মনে করি এখানে বয়স মূল বিষয় না, একজন ছাত্র তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে তার চাকরি অর্জন করবে। তারা তো চাকরির দাবিতে আন্দোলন করছে না, তারা কারও কাছে কোনও সহানুভূতি চায় না। তারা চায় শুধুমাত্র তাদের অধিকার।’
সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্ন রেখে এই চিত্রনায়ক এসময় আরও বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে আজ পরিবর্তন এসেছে, তাহলে কেন এখনও চাকরিতে বয়সের ক্ষেত্রে বৈষম্য জিইয়ে রাখা হয়েছে? তাদের এই যৌক্তিক দাবি কেন এখন পর্যন্ত পূরণ হচ্ছে না?’