টানা সাত দিন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম। আগামী ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত গ্রিড সঞ্চালন লাইনের উন্নয়নকাজের সুবিধার্থে জেলাজুড়ে এই লোডশেডিং দেওয়া হবে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ পিএলসি। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকল্প পরিচালক (প্রধান প্রকৌশলী) মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নেসকো এবং পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা এই লোডশেডিংয়ের আওতায় পড়বেন। তবে গ্রাহকরা একেবারে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবেন না। লোডশেডিং হলেও বিকল্প সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের পত্রে জানানো হয়েছে, আওতাধীন ‘পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংথেনিং (জিটুজি) প্রকল্পের’ নির্মাণকাজের স্বার্থে রংপুর-কুড়িগ্রাম, রংপুর-লালমনিরহাট ও রংপুর-তারাগঞ্জ ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনে পর্যায়ক্রমে শাটডাউন দেওয়া হবে। এ সময় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)-এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় আংশিক লোডশেডিং হতে পারে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রংপুর-কুড়িগ্রাম ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন শাটডাউনে থাকবে। এ কারণে নেসকোর আওতাধীন সংশ্লিষ্ট ৩৩ কেভি ফিডারগুলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আংশিক লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে জেলায় সম্ভাব্য লোডশেডিং নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। ‘ডিসি কুড়িগ্রাম’ ভেরিফাইড আইডিতে দেওয়া পোস্টে জেলা প্রশাসন জানায়, সকলের অবগতির জন্য, রংপুর-কুড়িগ্রাম ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শাটডাউন কার্যক্রম চলবে। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সবাইকে ধৈর্য ধারণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
নেসকোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সঞ্চালন লাইনের উন্নয়নকাজের জন্য এক সপ্তাহ জেলায় লোডশেডিং হতে পারে। নেসকো এবং পল্লী বিদ্যুৎ উভয় পর্যায়ের গ্রাহকরা এর আওতায় পড়বেন। ৫ আগস্টের পর সঞ্চালন স্বাভাবিক হবে।’









