ঈদের কেনাকাটা নিয়ে কোন্দলের জেরে স্বামীর নির্যাতনে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূর নাম তানজিলা আক্তার তানিয়া।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিনাজপুরের কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন গৃহবধূর বাবা। অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান।
দিনাজপুর শহরের পুলহাট মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।
গৃহবধূর বাবা আবু তালেব বলেন, সোমবার (৩১ মার্চ) শহরের পুলহাট মিস্ত্রীপাড়া মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে জানানো হয় তানিয়া মারা গেছে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে এসে দেখি জামাই রুবেলের ঘরে মরা অবস্থায় পড়ে আছে। মেয়ের শরীরে আচড়সহ আঘাতের চিহ্ন ছিল, মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা গেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানায়, ঈদের কেনাকাটা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে স্ত্রী তানজিলা গলায় গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করে।
তার দাবি, তানিয়ার স্বামী রুবেল নেশায় আসক্ত। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতন করতো। নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর মা আরজিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তার গলায় ফাঁসির চিহ্ন নেই। তবে শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ভাই আরিফ বলেন, আমার বোনকে নির্যাতন করা হতো। আমার বোন জামাই নেশাগ্রস্ত ছিল। আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।
২০ বছরের গৃহবধূ তানিয়া ছিলেন ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার ৪ বছরের রামিছা নামের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
ওসি মতিউর রহমান বলেন, এই ঘটনায় তানিয়ার বাবা আবু তালেব একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।