কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনসহ তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে কেস ডায়েরি (সিডি) তলব করেছেন আদালত। একইসঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সদর আমলি) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মজনু মিয়া এ আদেশ দেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা (জিআরও) আনারুল ইসলাম এবং আরিফুলের আইনজীবী সাইদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন দাখিল করেন। পৃথক দুটি আবেদনে মামলার সিডি তলব এবং দীর্ঘ পাঁচ বছরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আইওর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার আরজি জানানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে কোর্ট সাব ইন্সপেক্টর (সিএসআই) শুনানিতে অংশ নিয়ে আদালতকে জানান, কেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে তা আদালতকে জানানো প্রয়োজন। আবেদন মঞ্জুর হলে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি নেই। আদালত শুনানি শেষে দুটি আবেদনই মঞ্জুর করেন।
সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। পুলিশ প্রবিধানমালা ১৯৪৩-এর ২৪৫ প্রবিধান এবং সিআরপিসি ১৭৩ ধারা অনুসারে দ্রুত তদন্ত সমাপ্ত করার বিধান থাকা সত্ত্বেও পাঁচ বছর ধরে তদন্ত সম্পন্ন না করা আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এক ধরনের অপরাধও বটে। এজন্য আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছেন।’
প্রসঙ্গত, প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও নানা অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান করায় ২০২০ সালের ১৩ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকিসহ ডিসি অফিসে এনে নির্মম নির্যাতন করেন জেলা প্রশাসনের তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা। এরপর অধূমপায়ী আরিফের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়।