কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ১০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা খুদেজা আক্তার। সে মানসিক প্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে পরিবার। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না বাবা-মা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ধলা ইউনিয়নের কলুমা গ্রামের দিনমজুর সুলেমান ও নাজেরা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান খুদেজা। জন্মের পর থেকে কোনও কথা বলতে পারছে না। দুই বছর বয়স থেকে শিকলবন্দি। বর্তমানে তার বয়স ১২ বছর।
দিনমজুর সুলেমান জানিয়েছেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে সন্তানকে সাধ্যমতো চিকিৎসা করিয়েছেন। নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করেছেন মেয়ের চিকিৎসার জন্য। নিঃস্ব হয়ে কাজের সন্ধানে নিজ এলাকা ছেড়েছেন। গজেন্দ্রপুর গ্রামে শাশুড়ি ইনজু বেগমের কাছে খুদেজাকে রেখে নারায়ণগঞ্জের একটি বস্তিতে থেকে দিনমজুরের কাজ করেন। তার স্ত্রী পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
খুদেজার নানি ইনজু বেগম বলেন, ‘১০ বছর ধরে খুদেজা শিকলবন্দি। কোনও কথা বলে না। কাউকে কোনও আঘাত করে না। কিছু খেতে দিলে খায়। ক্ষুধা লাগলেও বলতে পারে না।’
এভাবে বেঁধে রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে শিকল খুলে রাখতাম। সবার অজান্তে তিনবার পানিতে পড়েছিল। মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছে। মা-বাবা এখানে থাকে না। আমাকে দেখে রাখতে হয়। কোনও দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য বেঁধে রেখেছি।’
ইনজু বেগম বলেন, ‘অর্থের অভাবে খুদেজার চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তশালীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই। কেউ সহায়তার হাত বাড়ালে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে খুদেজা।’
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মিঠুন চক্রবর্তী এবং ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট ডা. দ্বীন ইসলাম বলেছেন, আমরা খুদেজাকে দেখেছি। প্রতিবন্ধীদের কোনও অঙ্গহানি হলে সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম অঙ্গ, শ্রবণযন্ত্র অথবা হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে প্রতিবন্ধীদের ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়। কিন্তু খুদেজার মানসিক চিকিৎসা দরকার। এসব চিকিৎসা আমাদের প্রতিষ্ঠানে নেই। আমাদের এখান থেকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয় না। তাই খুদেজার ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘আমি খুদেজাকে দেখেছি। উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো।’
এলাকাবাসী জানান, সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি অসহায় খুদেজার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তাহলে আলোর পথ দেখবে মেয়েটি। না হলে সারা জীবন শিকলবন্দি হয়ে থাকতে হবে। অন্যান্য ছেলেমেয়ের মতো খুদেজা হাসুক, খেলুক এবং পড়াশোনা করুক—এটাই চান এলাকাবাসী।