পুকুরে ডুবে একে একে তিন ছাত্রের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসের সব পুকুর ও ডোবা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব পুকুরে সাঁতার কাটা ও পানিতে নামাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সকল পুকুরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের কোনও পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা বা পানিতে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে জারিকৃত এ নির্দেশনা অমান্য করে কেউ পুকুরে প্রবেশ বা নামলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকল শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে মনে চলার জন্য অনুরোধ করা হলো।
চুয়েট ক্যাম্পাসে বর্তমানে পুকুর রয়েছে দুটি। এ ছাড়া একাধিক ডোবা রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পুকুরে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এরপর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গতকাল বুধবার পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যান কম্পিউটারবিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী চমক দত্ত আর তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত দেব। এর আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা।
চুয়েট সূত্রে জানা গেছে, শান্ত ও অর্ণব বন্ধুদের সঙ্গে চুয়েটের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলসংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। এরপর তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান অর্ণব সাহা। সে ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালযয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।









