ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রমজান মাসের তারাবির নামাজের টাকা উঠানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয় জনকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।
বুধবার (০২ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ইটনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- কবির হোসেন, শরীফ মিয়া, রবিউল্লাহ, ওহাব মিয়া, রাজু আহমেদ, সজিব আহমেদ, জীবন মিয়া, জয়নাল আবেদীন ও ফোরকান ইসলামসহ ১২ জন।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইটনা গ্রামের শাহী মসজিদে রমজানের মাসের তারাবি নামাজের হাদিয়ার টাকার হিসাব নিয়ে ওই গ্রামের জীবন মিয়া ও শরীফ মিয়ার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে বাগবিতণ্ডা হয়। বুধবার সকালে শরীফ মিয়াকে দোকানের সামনে পেয়ে জীবন মিয়া আবারও তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের লোকজনসহ এলাকার অন্তত ১২ জন আহত হন। জীবন মিয়া মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির ভাতিজা।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. লুৎফুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার সকাল ১০টার দিকে ১২ জন রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন স্বজনরা। ছুরি, চাকু এবং রডের আঘাত ছিল তাদের শরীরে। কয়েকজনের মাথায় আঘাত ছিল। এর মধ্যে ছয়জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গেছেন।’
শাহী মসজিদ কমিটির সদস্য আ. গফুর বলেন, ‘জীবন মিয়া মুসল্লিদের কাছ থেকে রমজানের হাদিয়া উঠান। শরীফসহ আরও কয়েকজন যুবক মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। এ নিয়ে জীবন ক্ষুব্ধ হন। এই ঘটনা থেকেই মারামারি হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
এ ব্যাপারে জানতে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেনের মোবাইল নম্বরে কল দিলে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি মসজিদের টাকা তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েজন আহত হন। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’