চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিতব্য আবাসিক হলের নাম ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে করার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা। নগরের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকালে ৫৫৯তম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্মিতব্য আবাসিক হলের নাম রাখা হয়েছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসি হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ফজলুল কাদের চৌধুরী ও তার ছেলে রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধানতম দালাল হয়ে কাজ করেছিলেন। চট্টগ্রামে শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আল বদর ও আল শামস বাহিনী গঠনে তিনি অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী গণহত্যা শুরু করার পর মুসলিম লীগের শীর্ষনেতা মালিক মোহাম্মদ কাসিমকে সঙ্গে নিয়ে ফজলুল কাদের চৌধুরী গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করে কীভাবে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনীকে সহযোগিতা করা যায় এবং তৎকালীন পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার সংগ্রাম ধূলিসাৎ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফজলুল কাদের চৌধুরীর গুডস হিলের বাড়িটি চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নৌযানে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আনোয়ারা উপজেলায় গহীরা উপকূলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ে তিনি। পরে তাকে বাঙালির বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি করা হয়।
এই হল তার নামে না করে বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের নামে করার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘যে মানুষটা কখনও চায়নি বাংলাদেশ নামে একটা রাষ্ট্রের জন্ম হোক, যিনি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল তার নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিতব্য আবাসিক হলের নামকরণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অবিলম্বে স্বাধীনতাবিরোধী ফজলুল কাদের চৌধুরীর নাম বাতিল করতে হবে। এই হলের নাম বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম ঘোষণা করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি সুদীপ্ত চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন কৃষ্ণ সাহা, শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা এবং চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক শুভ দেবনাথ প্রমুখ।