কুমিল্লায় পর্যটন খাতে ক্যামেরা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা। ‘কুমিল্লার পর্যটন খাতে থামছে না ক্যামেরা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য’ শিরোনামে গত ৯ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেখানে পর্যটন খাতে ক্যামেরা সিন্ডিকেটের ভয়াবহ হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়।
মূলত সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। এ ঘটনার লাগাম টানতে শেষ পর্যন্ত সাতটি অফিসে চিঠি দিয়েছেন শালবন বিহার ও জাদুঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন আলম। সংবাদ প্রকাশের দুই দিন পরই তিনি এই ব্যবস্থা নেন বলে নিজেই জানান।
চিঠি পাঠানো ওই সাত অফিস হলো- প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়, র্যাব-১১, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার সদর দক্ষিণ সার্কেল, কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি, কুমিল্লার ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ময়নামতি জাদুঘরের আনসার ব্যাটালিয়ন শাখা।
ওই চিঠিতে লেখা হয়, শালবন বিহার একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর দর্শনার্থী এ পুরাকীর্তি স্থানটি পরিদর্শনের জন্য আগমন ঘটে। সম্প্রতি শালবন বিহারের অভ্যন্তরে একটি সংঘবদ্ধ ক্যামেরাম্যান ও হকার চক্রের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এ চক্রের সদস্যরা সীমানা প্রাচীর টপকে শালবন বিহারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ছবি তোলার বিনিময়ে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। টাকা না পেলে ক্যামেরাম্যানদের হাতে মারধরেরও শিকার হয়েছেন দর্শনার্থীরা।
এ ছাড়া পানি, আইসক্রিমসহ অন্যান্য খাবার বিক্রির নামে হকাররা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। সুযোগ পেলে এ চক্রটি বিহারের অভ্যন্তরে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটায়। এ নিয়ে গত ১৪ এপ্রিল ও ৯ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছে। শালবন বিহারের অভ্যন্তরে প্রবেশে নিষেধ এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করার জন্য বলা হলে এ চক্রটি শালবন বিহারে কর্মরত কর্মচারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্যামেরাম্যান ও হকারদের উপদ্রব শালবন বিহারে আগত দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক চলাফেরা এবং কর্মরত কর্মচারীদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও কাজ করার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। এদের উপদ্রবের কারণে দর্শনার্থীদের আগমন কমে গিয়ে প্রত্নপর্যটন খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যেতে পারে। বর্ণিত বিষয়ে আইনসম্মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
একটি সূত্র বলছে, সম্প্রতি এই চক্রকে আটকাতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে এই চক্রের পক্ষে সুপারিশ করেন। কিন্তু তা এড়িয়ে যান প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এই নিয়ে জেলা প্রশাসকও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই চক্রকে আটকাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে সাতটি অফিসে চিঠি দেওয়া হয়।
মোবাইল ফোনে জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান শাহীন আলম বলেন, আমাদের হাতে কোনও উপায় ছিল না। আগেও তাদের সতর্ক করেছি। তারা শেষ সুযোগ চাচ্ছিল। নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরেই চিঠি পাঠিয়েছি।
কুমিল্লা জাদুঘর ও শালবন বিহারের আনসার ব্যাটালিয়ন প্লাটুন কমান্ডার দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্থানীয় লোকজন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তারা বসেছেন। তারা আবদার করেন আবার যেন ওই ছেলেদের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তারা। এখন আর তেমন উৎপাত নেই। আমাদের দুই জন আনসার সেখানে দিয়েছি। তারা সেখানে নিয়মিত কাজ করে। এমন কিছু হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া খানম বলেন, নিউজটি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নজরে এলে তিনি ব্যবস্থা নিতে বলেন। আমি ট্রেনিংয়ে থাকা অবস্থায় আর যেতে পারিনি তাই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) পাঠাই। সেখানে এখন দুজন নতুন আনসার যুক্ত করা হয়েছে। এখন আর এমন ঘটনা হচ্ছে না। এমন কিছু হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।