বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত না করে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশদাতাসহ চার জনকে পাল্টা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এক নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তারা হচ্ছেন–বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা, সহ-সভাপতি জিয়াউল হক মিন্টু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুণ্ডু এবং দল থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সেলিম বেপারী।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের সই করা এ কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
নোটিশের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, সংসদ সদস্য শাহে আলমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ উত্থাপিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং বিভিন্ন অনলাইনে পোর্টালের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হন।
সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, কোন ক্ষমতাবলে তারা একজন সংসদ সদস্যকে এ ধরনের নোটিশ দিয়েছেন তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে উত্তর না দিলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একইদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিয়াউল মিন্টুকে দেওয়া নোটিশে বলা হয় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে কর্মী ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুণ্ডুকে দেওয়া নোটিশে উল্ল্যখ করা হয় দলীয় কার্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ৫৪ লাখ টাকা না দেওয়ায় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া তার অশোভন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে অনেকে বিব্রত। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না জানতে চাওয়া হয়।
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সেলিম বেপারীকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে দলীয় কোনও কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর সংসদ সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য শাহে আলমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ উত্থাপন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সেই নোটিশের কপি গত সোমবার সাংবাদিকদের কাছে বিলি করা হয়। সেখানে ১৫ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যকে নোটিশের উত্তর দিতে বলা হয়। তবে সংসদ সদস্য শাহে আলম জানিয়েছেন তিনি এ ধরনের কোনও নোটিশ পাননি।