চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ জন। বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে সাত জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক শিশু, তিন জন পুরুষ, তিন জন নারী ছিলেন। পরে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর আহত একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর এক নারী ও এক পুরুষসহ আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। হতাহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি পুলিশ।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভরঞ্জন চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কক্সবাজারগামী রিল্যাক্স পরিবহনের বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরমুখী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ জন মারা গেছেন। সাত জন ঘটনাস্থলে এবং তিন জন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছেন।’
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, চট্টগ্রামগামী একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী দুটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। প্রথমে বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর পরপরই পেছনে থাকা আরেকটি মাইক্রোবাস এসে ধাক্কা দেয়। এতে প্রথম মাইক্রোবাসে থাকা বেশির ভাগ যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন, যার মধ্যে গাড়িচালকও ছিলেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চার জনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষকে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুই জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
জেলা পুলিশের সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তৈৗফিকুল আলম বলেন, ‘নিহতদের সবাই হাইয়েসের মাইক্রোর যাত্রী। তারা কক্সবাজার থেকে ফিরছিলেন। তাদের মধ্যে চালক ছাড়া বাকিরা একই পরিবারের সদস্য হতে পারে বলে ধারণা করছি। স্বজনরা আসার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত সোম ও মঙ্গলবারও পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচ তরুণ নিহত হন এবং নয় জন আহত হন। মঙ্গলবার ভোররাতে পর্যটকবাহী দুটি মাইক্রোবাস উল্টে নয় জন আহত হন।