প্রতি বছরের মতো এবারও সুন্দরবনে ছুটি সীমিত করা হয়েছে। পরপর দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এবার ঈদকে ঘিরে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যা আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বলবত থাকবে।
রবিবার পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করীম বলেন, ‘সুন্দরবনের সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে ঈদে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে ছুটি। বিশেষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ছুটি দেওয়া হবে না।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির টেপারবিল এবং ধানসাগর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির শাপলার বিলের তেইশেরছিলায় দুই দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় ৬ একর বনভূমির গাছপালা।
পাশাপাশি সম্প্রতি সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক জায়গায় হরিণের মাংস উদ্ধার হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে গোপনে হরিণের মাংস বিক্রি হওয়ার খবর রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের অভিযানে প্রায় আট মণ হরিণের মাংস ও হরিণ ধরার বিপুল পরিমাণ ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে চোরাশিকারিরা সুন্দরবনে হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এসব কারণে অগ্নিদস্যু ও শিকারিদের প্রতিরোধে বন বিভাগ সুন্দরবনে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ছুটিও সীমিত করা হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) রানা দেব বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে চোরাশিকারিদের ধরতে সুন্দরবনের সব টহল ফাঁড়ি এবং স্টেশনের বন কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের বিশেষ নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। বনরক্ষীরা তাদের টহল কার্যক্রম জোরদার করেছেন।’