খুলনা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ‘পলাশ বাহিনী’র সঙ্গে যৌথবাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিনগত রাতে সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি এলাকায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ ঘটনার সময় তিন পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ‘পলাশ বাহিনী’র প্রধান পলাশসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় বেশ কয়েকটি অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে– পলাশ বাহিনীর প্রধান নগরীর মিন্ত্রীপাড়া এলাকার শেখ পলাশ, ডালমিল রোড এলাকার রুবেল ও কালা লাভলু, বানরগাতি এলাকার সৈকত রহমান, একই এলাকার মহিদুল ইসলাম ও গোলাম রব্বানী, বটিয়াঘাটা সুরখালি এলাকার আরিফুল, মুসলমানপাড়া এলাকার মোহাম্মদ লিয়ন শরীফ, বাগমারা মেইন রোড এলাকার ইমরানুজ্জামান, নিরালা এলাকার ইমরান, পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার রিপন এবং রূপসা বাগমারা এলাকার ফজলে রাব্বি রাজন।
এ সময় উদ্ধার করা হয় তিনটি পিস্তল, একটি একনলা শটগান, একটি কাটা বন্দুক, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি চাপাতিসহ কয়েক রাউন্ড গুলি। এ ছাড়াও সাতটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মো. আজম খান জানান, গত রাত ১২টার দিকে তারা তথ্য পান সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি এলাকায় গাড়িচালক আব্দুর রহমান গাজীর বাড়িতে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। এ সময় তারা ও যৌথবাহিনী মিলে অভিযান পরিচালনা করলে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পাল্টা গুলি করে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের পর ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
‘এই অভিযানে তিন পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছে। রবিবার বেলা ২টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।’
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত শেখ পলাশ ও অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে খুলনা জেলায়। সে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাকে গ্রেফতার করার বিষয়ে পুরষ্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল পুলিশ।
জানা গেছে, বানরগাতি আরামবাগ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন একতলা ভবন ও পার্শ্ববর্তী আরেকটি ভবনে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছিল। সেখানে বেশ কয়েকটি খাবারের প্যাকেট পাওয়া যায়।
নৌ বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা জানান, তাদের অভিযানে এই দুই বাড়ি থেকে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের অবস্থান জানতে পেরে সন্ত্রাসীদের মধ্যে দুই জন পার্শ্ববর্তী পুকুরে ঝাঁপ দিলে সেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চলে।