রংপুর নগরীর হাড়িপট্টি এলাকা বলে পরিচিত গুদরী বাজার মার্কেটটি ‘গরিবের বাজার’ বলে ইতোমধ্যে রংপুরসহ পুরো বিভাগে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। মার্কেটটিতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীদের পোশাক কম দামে পাওয়া যায় বলে ক্রেতারা ভিড় জমিয়েছেন।
এই মার্কেটে কম দামে বড় বড় শপিং মলের মতো সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। পোশাকের দাম অনেক কম কিন্তু গুণগত মান প্রায় একইরকম, এমনটাই বলছেন ক্রেতারা। ঈদ উপলক্ষে মার্কেটটিতে এখন পছন্দের পোশাক কিনতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
হাড়িপট্টি এলাকায় মার্কেটে ঘুরে দেখা গেছে, হাল ফ্যাশনের সব ধরনের থ্রিপিস থেকে শুরু করে সব ধরনের লেটেস্ট মডেলের বিভিন্ন ধরনের জামাসহ বাহারি কাপড় পাওয়া যায় এখানে। এ ছাড়াও শিশুসহ সব বয়সী মেয়েদের কাপড়ের জন্য বিখ্যাত এই মার্কেটটি। চাকচিক্য আর দোকানের তেমন কোনও সাজসজ্জা না থাকায় অনেকে গুরুত্ব দিতে চায় না। নগরীর বড় বড় শপিং মল আর মার্কেটে যে ধরনের কাপড় পাওয়া যায়, ঠিক একই ধরনের কাপড় পাওয়া যায় এখানে। নিম্নবিত্ত আর স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে এই মার্কেট খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ এর নাম দিয়েছে ‘গরিবের বাজার’। ঈদ উপলক্ষে সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায় এখানে।
লালমনিরহাট থেকে স্ত্রী আর দুই সন্তানকে সন্তানকে নিয়ে ঈদের কাপড় কিনতে আসা মনিরুল আলম বলেন, ‘বড় বড় শপিংমলগুলোতে শুধু চাকচিক্য, আর প্রতিটি পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। আমাদের মতো নিম্নবিত্তদের সেখানে পণ্য কেনার সামর্থ্য নেই। তাই তো ছুটে এসেছি এই বাজারে। এখানে মেয়ের জন্য পোশাক কিনলাম এক হাজার ২শ টাকা দিয়ে। একই জিনিস অন্য মার্কেটে তিন হাজার টাকা দাম।’
রংপুর নগরীর রাধাবল্লভ থেকে সালমা বেগম এসেছেন তার দুই সন্তানের কাপড় কিনতে। তিনি বললেন, ‘নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এই মার্কেট ভরসা। প্রতিটি দোকানে উপচে পড়া ভিড়। শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা চলছে। অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার ও মধ্যবিত্ত পরিবারও এসেছে ঈদের কেনাকাটা করতে। ফলে গরিবের বাজার এখন মানুষের কোলাহলে মুখরিত।’
এদিকে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা খুবই ভালো হচ্ছে জানিয়ে দোকানিরা জানালেন, বেচাকেনা ভালো আর তারা অনেক কম দামে পন্য বিক্রি করেন। তবে তাদের পণ্যের গুনগত মান ভালো হওয়ায় এবার তারা অন্যান্যবারের চেয়ে ভালোই বিক্রি হয়েছে।