X

সেকশনস

সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে সমুদ্র অর্থনীতি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৬, ১০:০৭

সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে সমুদ্র অর্থনীতি বাংলাদেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে সমুদ্র অর্থনীতি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নির্ধারিত হওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিধি  বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় নতুন বেশ কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সমুদ্রে (বাংলাদেশ অংশে) কী পরিমাণ মৎস্য সম্পদ, খনিজ সম্পদ, নৌ চলাচলসহ অন্যান্য কী ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে ১৯টি মন্ত্রণালয়। এদিকে সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ৫টি নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর মধ্যে সমুদ্র অর্থনীতির বিষয়ে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা দ্রুত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রসীমা এলাকায় সমন্বিত সার্ভে ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পর্কে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে ব্লু ওসান ইকোনমি বা নীল সমুদ্র অর্থনীতি অন্যদিকে, সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করতে প্রস্তাব দিয়েছে চীন। অবশ্য এরই মধ্যে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও হয়েছে। আগ্রহ রয়েছে জাপানেরও। এছাড়া, হাতে নেওয়া হয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ। এর বাইরে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে ব্লু ওসান ইকোনমি বা নীল সমুদ্র অর্থনীতি বা সংক্ষেপে সমুদ্র অর্থনীতি।
এই সমুদ্র অর্থনীতি কার্যকর করতে ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), মালয়েশিয়া সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে মালয়েশিয়া থেকে একটি জাহাজ নির্মাণ করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জাহাজটি দৈর্ঘ্যে ৩৮ মিটার এবং ওজন হবে ১ হাজার ৫০০ টন। জাহাজটি মার্চ মাসেই বাংলাদেশে এসে পৌঁছবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাউসার আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগামী মার্চের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে মিন অনুসন্ধানী নামে একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এটি আসলে আমাদের সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ কি পরিমাণ আছে তা জরিপ করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, সমুদ্র অর্থনীতিকে কার্যকর ও ফলপ্রসু করতে হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ নেই।

এদিকে, সমুদ্র অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে সরকার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যকে ব্যবহার করে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন এবং কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পকে আরো বিকশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে ১২০ কিলোমিটারের পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈতক- কক্সবাজার। এই সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারলে গোটা বাংলাদেশই বদলে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার ও প্রবাল দ্বীপ সেন্টর্মাটিনকে আর্কষণীয় করে তুলতে পারলে এ অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকের ঢল নামবে।  ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁডাবে ১৬০ কোটি। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবেন এশিয়ার দেশগুলোতে। এছাড়াও বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৮ সালের মধ্যে এ শিল্প হতে ২৯ কোটি ৭০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অবদান রাখবে ১০.৫ ভাগ।

সমুদ্র নিয়ে গবেষণা করা বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেভ আওয়ার সি’র তথ্য অনুযায়ি, সমুদ্র থেকে মাছ ধরে শুধু বিদেশে রফতানি করেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। এ ছাড়া মাছ থেকে খাবার, মাছের তেল দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, সস, চিটোসান তৈরি করা সম্ভব, যাতে নতুন ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তা বিদেশে রফতানি করেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শুধু সামদ্রিক মাছ ও শৈবাল রফতানী করে বাংলাদেশ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের সম পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এ মুহূর্তে দরকার সমুদ্রসম্পদের জরিপ করে  বের করা সেখানে কী কী সম্পদ কত পরিমাণ আছে। এরপর এ সম্পদ কিভাবে কাজে লাগনো যাবে তা ঠিক করা। তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্রে দুই ধরণের সম্পদ রয়েছে। একটি হচ্ছে প্রাণীজ সম্পদ অন্যটি হচ্ছে খনিজ সম্পদ। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সমুদ্রে কি পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা এখনও জরিপ করা সম্ভব হয়নি।

সেভ আওয়ার সি’র গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট ম্যাগনেসিয়ামের ৫০ শতাংশই আসে সামুদ্রিক উৎস থেকে। সমুদ্র থেকে আহরিত ম্যাগনেসিয়াম লবণ এয়ারক্রাফট নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পটাশিয়াম লবণ সার ও নানা ধরনের রসায়ন শিল্পে ব্যবহার করা হয়। ওষুধ তৈরিতে ব্রোমিন এবং ওয়াল বোর্ড নির্মাণে জিপসাম ব্যবহৃত হয়। সোডিয়াম ক্লোরাইড খাবার লবণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সমুদ্র থেকে জীবনরক্ষাকারী নানা ধরনের ওষুধ পেতে পারি। এ পর্যন্ত ১০ হাজার কম্পাউন্ড সমুদ্র থেকে পাওয়া গেছে।  প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা মনে করছেন, আগামী প্রজন্মের ওষুধের জোগান আসবে সমুদ্র থেকেই। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ি, বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি-রফতানি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২৬০০ বাণিজ্যিক জাহাজ চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে আনা-নেয়া করে। ২০০৮ সালে বেসরকারি মালিকানায় বাংলাদেশি সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬টি। কিন্তু সমুদ্র পরিবহনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন তা ৭০-এ দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে আমদানি-রফতানিতে দেশীয় জাহাজের সংখ্যা বাড়লে এ খাতে বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন খাতে ২০০৮ সালে রেজিস্ট্রি করা জাহাজ ছিল চার হাজার। এখন যা নয় হাজারে পৌঁছেছে। 

সেভ আওয়ার সি’র তথ্য অনুযায়ি, পণ্য আমদানি-রফতানিতে বাংলাদেশি জাহাজ যুক্ত হওয়ায় দেশে গড়ে উঠেছে শিপিং এজেন্সি, ফ্রেইট-ফরোয়ার্ডিং, ব্যাংক-বীমা খাত। এ খাতে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেসরকারী এই প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ২৫০ জাতের মিঠা পানির মাছ এর বিপরীতে সাগরে রয়েছে অন্তত ৪৭৫ প্রজাতির মাছ। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে প্রতিবছর ৮ মিলিয়ন টন মাছ ধরা পড়ে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৭০ মিলিয়ন টন মাছ বাংলাদেশের মৎস্যজীবীরা আহরণ করে। যার সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত।  প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ি, সারা দেশে মোট মাছের উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত কিছু জরিপ থেকে জানা যায়, নানা প্রজাতির মূল্যবান মাছ ছাড়াও সমুদ্রসীমায় নানা ধরনের প্রবাল, গুল্মজাতীয় প্রাণী, ৩৫ প্রজাতির চিংড়ি, তিন প্রজাতির লবস্টার, ২০ প্রজাতির কাঁকড়া এবং ৩০০ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে ২০১৪ সালের ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ১৮টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে ২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সমুদ্র সম্পদ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক কোর্স শুরু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্সের সচিবের সঙ্গে পরামর্শ করে পরিবেশ ও বন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং প্রবাসীকণ্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, অর্জিত সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা রক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জিএসবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি সমন্বয়ে পৃথক সভা করার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়নে সমুদ্র অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনোমি’ বাস্তবায়নে জাতীয়, উপ-আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ফলপ্রসূ নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্প্রতি রাজধানীতে ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়ামের (আইওএনএস)

পঞ্চম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “সমুদ্র সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে ‘ব্লু ইকোনমি’ কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ  বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি রাষ্ট্রাধীন সমুদ্র (টেরিটোরিয়াল সি), ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কাউসার আহমেদ বলেন, সমুদ্রের তলদেশের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদ ব্যবহার করতে হলে যে পরিমাণ দক্ষ জনশক্তি দরকার, বর্তমানে বাংলাদেশে সেই পরিমাণ জনশক্তি নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগ থাকলেও প্রয়োজনীয় বাজেট না থাকার কারণে এই দুটি প্রতিষ্ঠানও সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না।

গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের বিশাল মৎস্য সম্পদের ১ শতাংশও বাংলাদেশের জেলেরা ধরতে পারছেন না উন্নত ধরনের জাহাজ ও প্রযুক্তির অভাবে। দক্ষ জনশক্তি  ও প্রযুক্তির অভাবের বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন উপকূল ও সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং ব্যবহার করার প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান এখনো আমাদের নেই। প্রয়োজনীয় মানবসম্পদও নেই। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি।’ সম্প্রতি রাজধানীর খামার বাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী বাংলাদেশের উপকূল ও সামুদ্রিক পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত সম্মেলনে তিনি বলেন, সমুদ্র সম্পদ আহরণে আমরা এখনো উপযুক্ত নই। মানবসম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এজন্য পরিকল্পিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার।

বিশ্বমানের জাহাজ হচ্ছে বাংলাদেশে: বিশাল সমুদ্রকে ঘিরেই দেশে এখন বিশ্বমানের জাহাজ তৈরি হচ্ছে। জাহাজ তৈরি শিল্পে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। বিশ্বে জাহাজভাঙা শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। পৃথিবীর মোট জাহাজ ভাঙার ২৪.৮ শতাংশ বাংলাদেশে সম্পাদিত হয়। দেশের দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল এ শিল্পের জন্য কাজে লাগাতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে তা আরো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে ।

লবণ রফতানি : সমুদ্রের লোনা পানিকে আটকে সূর্যের তাপ ব্যবহার করে প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ টন লবণ উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। লবণ চাষে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণ বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।  এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কাউসার আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই সমুদ্রের জোয়ারভাটা বা ঢেউকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ভারত সমুদ্রের ঢেউকে ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ভারতে মোট ২ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে সমুদ্রের ঢেউ এবং বাতাস ব্যবহার করে। আমাদের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে সমুদ্র নানাভাবে সহায়তা করতে পারে। 

জানা গেছে, বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে মেরিটাইম সহযোগিতা বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং ব্লু ইকোনমি সহায়তার ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে গত ২০ ডিসেম্বর সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বৈঠকে মেরিটাইম সহায়তার আওতায় বঙ্গোপসাগরে জলজ উদ্ভিদ ও মাছ সংরক্ষণে মেরিন অ্যাকুরিয়াম এবং কক্সবাজারে সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চীনের সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) সহায়তা খাতে নবায়নযোগ্য শক্তি, মেরিন বায়ো টেকনোলজি, ইকো টুরিজম, সমুদ্র দূষণ, বনায়নসহ সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও গবেষণার ব্যাপারে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক অর্থনীতি রক্ষা এবং সম্পদ আহরণে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরপরই একই ধরনের এমওইউ স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেয় চীন।
/জিএম/এমএসএম/

সম্পর্কিত

করোনার করাল গ্রাসে নিম্ন আয়ের মানুষ

করোনার করাল গ্রাসে নিম্ন আয়ের মানুষ

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে শিক্ষা খাত

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে শিক্ষা খাত

দেশি ওটিটি অ্যাপসে বাড়ছে কথা বলার খরচ

দেশি ওটিটি অ্যাপসে বাড়ছে কথা বলার খরচ

টিকা নিয়ে শঙ্কা কাটাতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদফতর

টিকা নিয়ে শঙ্কা কাটাতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদফতর

সাপ চাষে বিধিমালা আসছে, করা যাবে বাণিজ্যিক খামার

সাপ চাষে বিধিমালা আসছে, করা যাবে বাণিজ্যিক খামার

ধুলায় নাকাল ঢাকা, পড়ে আছে রোড সুইপার ট্রাক

ধুলায় নাকাল ঢাকা, পড়ে আছে রোড সুইপার ট্রাক

ব্যয় বাড়লেও মানুষ সঞ্চয় করছে বেশি

ব্যয় বাড়লেও মানুষ সঞ্চয় করছে বেশি

এপ্রিল-মে মাসে বইমেলার চিন্তা-ভাবনা, প্রকাশকরা চান ফেব্রুয়ারি-মার্চে

এপ্রিল-মে মাসে বইমেলার চিন্তা-ভাবনা, প্রকাশকরা চান ফেব্রুয়ারি-মার্চে

রফতানি কমছে, ভরসা কেবল রেমিট্যান্স

রফতানি কমছে, ভরসা কেবল রেমিট্যান্স

দিহানের বয়স আসলে কত?

দিহানের বয়স আসলে কত?

উত্তরা ফিন্যান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, উল্টো চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক

উত্তরা ফিন্যান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, উল্টো চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক

১১ বছরে ৪ বার আদালত বদল, পিংকির পরিবার হতাশ

১১ বছরে ৪ বার আদালত বদল, পিংকির পরিবার হতাশ

সর্বশেষ

নতুন ঘর পেয়ে খুশি সুকজান বেগম

নতুন ঘর পেয়ে খুশি সুকজান বেগম

‘জীবনেও ভাবি নাই পাক্কা ঘরে ঘুমামু’

‘জীবনেও ভাবি নাই পাক্কা ঘরে ঘুমামু’

ঘর 'আপন' হওয়ার আগে আগলে রাখছেন তারা

ঘর 'আপন' হওয়ার আগে আগলে রাখছেন তারা

খুবির অস্থিতিশীল পরিবেশ প্রসঙ্গে সাবেক ২৭৩ শিক্ষার্থীর উদ্বেগ

খুবির অস্থিতিশীল পরিবেশ প্রসঙ্গে সাবেক ২৭৩ শিক্ষার্থীর উদ্বেগ

বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে ঘরে আগুন, প্রতিবন্ধী শিশুসহ নিহত ৪

বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে ঘরে আগুন, প্রতিবন্ধী শিশুসহ নিহত ৪

‘এত কাজ কেউ করতে পারেনি, জিতলে আরও করবো’

‘এত কাজ কেউ করতে পারেনি, জিতলে আরও করবো’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে মানতে হবে যে সব বিষয়

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে মানতে হবে যে সব বিষয়

কারাগারে হলমার্কের জিএম এর নারীসঙ্গ: ৩ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

কারাগারে হলমার্কের জিএম এর নারীসঙ্গ: ৩ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

কারাগারে নারী দর্শনার্থীর সঙ্গে সময় কাটালেন হলমার্কের জিএম

কারাগারে নারী দর্শনার্থীর সঙ্গে সময় কাটালেন হলমার্কের জিএম

বিমানবন্দরে স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনায় বাসচালক কারাগারে

বিমানবন্দরে স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনায় বাসচালক কারাগারে

কেক কাটা নয়, শুধু দোয়ার আয়োজন করেছি: সম্রাট

শুভ জন্মদিন নায়করাজ রাজ্জাককেক কাটা নয়, শুধু দোয়ার আয়োজন করেছি: সম্রাট

সাংবাদিক আফজালের মৃত্যুতে ডিএনসিসি মেয়রের শোক

সাংবাদিক আফজালের মৃত্যুতে ডিএনসিসি মেয়রের শোক

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ব্যয় বাড়লেও মানুষ সঞ্চয় করছে বেশি

ব্যয় বাড়লেও মানুষ সঞ্চয় করছে বেশি

রফতানি কমছে, ভরসা কেবল রেমিট্যান্স

রফতানি কমছে, ভরসা কেবল রেমিট্যান্স

উত্তরা ফিন্যান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, উল্টো চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক

উত্তরা ফিন্যান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, উল্টো চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে আসছে আমদানি করা চাল

বাজারে আসছে আমদানি করা চাল

হারানো টাকা ফেরত পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

হারানো টাকা ফেরত পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

অবশেষে এলপিজির মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব

অবশেষে এলপিজির মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব

অবশেষে এলপিজির মূল্য নির্ধারণে বিইআরসির গণশুনানি

অবশেষে এলপিজির মূল্য নির্ধারণে বিইআরসির গণশুনানি

নতুন বিদ্যুৎ আইনে দুর্ঘটনার দায় জনতার কাঁধে!

নতুন বিদ্যুৎ আইনে দুর্ঘটনার দায় জনতার কাঁধে!

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, লণ্ডভণ্ড হতে পারে অর্থনীতি

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, লণ্ডভণ্ড হতে পারে অর্থনীতি

৫ বছরের আগে ঋণের টাকা ফেরত দেবেন না গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা!

৫ বছরের আগে ঋণের টাকা ফেরত দেবেন না গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা!


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.