যে কাঁচা মরিচের দাম গত মাসেও ছিল প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এই সময়ের মধ্যেই চারশো টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে কোথাও কোথাও। তবে সরকারের কাঁচামরিচ আমদানির খবরে কিছুটা কমতে শুরু করে দাম। যদিও ক্রেতারা বলছেন এখনও দাম অত্যাধিক। অপরদিকে বিক্রেতারা বলছেন বৃষ্টি-বন্যার সময়ে প্রতি বছরই এই দাম বেড়ে থাকে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচা বাজার সরেজমিনে ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।
জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ কেজিতে। এর একমাস পরেই হুহু করে বাড়তে থাকে এর দাম। মানভেদে দুইশো থেকে তিনশো, সাড়ে তিনশো আবার কোথাও কোথাও চারশো টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলে আসে বাড়তি চাপ। পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়তে থাকে তাদের মধ্যে।
এরই প্রেক্ষিতে কাঁচামরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, “কাঁচা মরিচের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আমদানির ওপর বিদ্যমান কর কমানো হচ্ছে এবং কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে।”
তিনি জানান, আমদানি করা কাঁচা মরিচ বাজারে পৌঁছালে সরবরাহ বাড়বে। ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।
এদিকে সরকারের আমদানির সিদ্ধান্তের পরই আজ বাজারে কমতে শুরু করে কাঁচা মরিচের দাম। তবে তা এখনও সব শ্রেণির মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি।
বাজার করতে আসা শামীম হোসেন বলেন, “আমাদের দেশ একটা অদ্ভুত দেশ; কিছু হলেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। আমরা জানি দেশে বন্যা হলে কাঁচা মরিচসহ সবজির ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিছুটা দাম বেড়ে যায়। তাই বলে দ্বিগুণ, তিনগুনের বেশি হবে এটা মানা যায় না।”
আরেক ক্রেতা ফাতেমা বেগম বলেন, “আজ কাঁচা মরিচ কিনলাম ৩৫০ টাকা কেজিতে। এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কিনেছি ৯০ টাকা দিয়ে। অথচ কয়েক মাস আগে প্রায় এই দামেই এক কেজি মরিচ পাওয়া যেত। এভাবে দাম বাড়লে আমরা কিভাবে চলবো। এটাতো আমাদের প্রতিদিনই লাগে।”
আগে আধা কেজি করে কিনলেও এখন এক পোয়া করে কিনি। দাম বাড়ার কারণে আমাকে আমার পরিমাণের থেকে কম কিনতে হচ্ছে এভাবেই বলেন বাজারে আসা আরেক ক্রেতা ইউসুফ আলী। তিনি আরও বলেন, “আমাকে যেহেতু একটা নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে চলতে হয় সেজন্য কম জিনিস কিনে একই টাকার মধ্যে চলার চেষ্টা করছি। যদিও আজকে দাম কিছুটা কমেছে তবে এটা আসলে কম দাম না।”
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন সবজিসহ কাঁচা মরিচের দাম দুইদিন ধরে অনেকটাই কমে এসেছে।
সবজি বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, “আজ থেকে তিনদিন আগে সব সবজির দাম কেজিতে প্রায় ২০-২৫ টাকা বেশি ছিল। আজ অনেকটা কমেছে। কয়দিন আগে আড়তে কম মাল আসতো তাই দম বেশি ছিল। এখন আবার মাল কিছুটা আসছে তাই দাম কিছুটা কমেছে।”
কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, “বৃষ্টি-বন্যায় কাঁচা মরিচের গাছের অনেক ক্ষতি হয়। তাই এই বৃষ্টি-বন্যার সময় দাম বেড়ে যায়। এবারও সেটাই হয়েছে। শুনেছি সরকার আমদানি করার অনুমতি দিয়েছে। মনে হচ্ছে এই কারণেই আজ দাম কিছুটা কমেছে। দুইদিন আগে আমরা কিনে এনেছি ১৫০০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি)। সে হিসেবে বিক্রি করতাম আরেকটু বেশি। যেহেতু আমাদের ভাড়াসহ পচা মরিচের ঘাটতি মেটাতে হতো। আজকে কিনেছি ১৪০০ টাকা পাল্লা। তো দাম কমে এসেছে।”
মরিচ বিক্রেতা মো. জুলহাস বলেন, “গতকালই ৪০০ টাকা কেজিতে মরিচ বিক্রি করেছি। আজ ৩০০-৩৫০ টাকা বিক্রি করছি। এর মধ্যে মান অনুযায়ী আলাদা হয়।”
ভারতীয় কাঁচা মরিচ এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে এখনও এসে পৌঁছায়নি। তবে এসে পড়বে। যেহেতু সরকার বলেই দিয়েছে।” এসময় তিনি বলেন, “এখন ইন্ডিয়ান মরিচ আসার কথা হচ্ছে শুনেই সবাই দ্রুত মরিচ ছিড়ে বিক্রি করে ফেলবে। এখন পরিপক্ক না হলেও ছিড়ে বিক্রি করে ফেলবে।”
“আমাদের ৫ কেজি মরিচের মধ্যে ২৫০ গ্রাম ফেলে দিতে হয় নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে। তাই খুব একটা কম দামে বিক্রি করতে পারি না”, যুক্ত করেন জুলহাস।
আজ বাজার ঘুরে দেখা যায় মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা মনে করছেন সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে এখন দাম কমা শুরু করেছে এবং কিছুদিনের মধ্যে আরও কমে যাবে।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে দায়ী ব্যক্তি-গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা 







