মাঠটিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা বারমুডা প্রজাতির ঘাস লাগানো হয়েছে। প্রজাপতি আকৃষ্ট করে এমন ফুলের গাছও আশপাশে রয়েছে। নিজস্ব রিজার্ভার থেকে ৯টি ঝর্নার মাধ্যমে মাঠের ঘাসে পানি ছিটানো, দর্শক গ্যালারি ও আধুনিক শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৪ দশমিক ৩৬ বিঘা জমির ওপর নির্মিত মাঠটি ৬ কোটি ৬১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এরই মধ্যে মাঠটি উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করা হয়েছে। শ্রমিকরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন। সবুজ ঘেরা মাঠে শিশুরা খেলছে। শিশুদের খেলাধুলা দেখে অনেক অভিভাবককে মুঠোফোনে ভিডিও করতে দেখা গেছে। মাঠটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অনেক আগ্রহ দেখা গেছে।
জানতে চাইলে মাঠের তদারকির দায়িত্বে থাকা বাসাবো তরুণ সংঘের সভাপতি ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীকে তিলোত্তমা শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ‘জল সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই মাঠের উন্নয়ন করে। এতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সিনিয়র নাগরিকরা সকাল-সন্ধ্যা দুই বেলা মাঠের চারদিকে হাঁটতে পারবেন। দৃষ্টিনন্দন ঝর্নার মাধ্যমে সবুজ ঘাসে পানি ছিটানো হবে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে ঘাসগুলো মরে যাবে না। অতিবৃষ্টি হলেও মাঠে পানি জমবে না। এই মাঠে নগরায়নের মধ্যে গ্রামের অবয়ব রয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা নাহার বেগম বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের খেলার কোনও জায়গা নেই। তারা বাসার মধ্যেই খেলে। মাঠটি খুলে দেওয়া হলে সকাল-বিকাল বাচ্চারা খেলতে পারবে। মাঠের পরিবেশ দেখতেও অনেক সুন্দর। মাঠকে ঘিরে আশপাশের পরিবেশও বদলেছে।’
ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘বাসাবো খেলার মাঠটি সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয়দের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। আমাদের ‘জল-সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠগুলোর উন্নয়ন করছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণের ৩১টি খেলার মাঠ ও পার্ক বিশ্বমানের করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক মাঠের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাঠটিকে বিশ্বমানের হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিবন্ধীরাও খেলতে পারবেন। অতিবৃষ্টি হলেও পানি জমবে না।’