ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ছোড়া ১০টি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে দাবি রাশিয়ার

রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ছোড়া ১০টি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে রাশিয়া। বুধবার (১৫ মে) সকালে ইউক্রেনের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্তের বিষয়টি জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, উত্তরপূর্ব সীমান্তে রুশ বোমাবর্ষণ প্রতিরোধ করতে লড়াই করছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এর মধ্যেই ইউক্রেনের প্রতি সংহতি জানাতে কিয়েভ গিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। আজ তার সফরের দ্বিতীয় দিন।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, কৃষ্ণ সাগরের ওপরে এটিএসিএমএস নামের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে রুশ বাহিনী। এটিকে মার্চ মাসে সামরিক সহায়তা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেভাস্তোপল গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ বলেছেন, কৃষ্ণ সাগরের ওপর এবং বেলবেক বিমানঘাঁটির কাছে বেশ কয়েকটি ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।

রাজভোজায়েভ বলেন, বিধ্বস্ত ক্ষেপণাস্ত্র একটি আবাসিক এলাকায় পড়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেলগোরোড অঞ্চলে নয়টি ইউক্রেনীয় ড্রোন, দুটি ভিলহা রকেট, দুটি অ্যান্টি-রাডার হার্ম ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি হামার বোমা ধ্বংস করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বেলগোরোডের গভর্নর ব্যাচেস্লাভ গ্ল্যাডকভ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুবোভয়ে গ্রামের একটি বাড়িতে আগুন ধরে দুই জন আহত হয়েছেন।

রুশ সামরিক বাহিনী বলেছে, কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের আরও পাঁচটি ড্রোন এবং ব্রায়ানস্কে তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, তাতারস্তান অঞ্চলে আরেকটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাসিলি গোলুবেভ বলেছেন, দুটি ড্রোন একটি জ্বালানি ডিপোতে হামলা করেছে। তবে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইউক্রেন গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়াজুড়ে তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলা করছে। এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার এ ভিডিও বার্তায় বলেন, খারকিভ ও ডনেস্ক অঞ্চলে শক্তি বৃদ্ধির জন্য সেনা পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুতই এই পরিস্থিতির সমাধান করা হবে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

ওয়ার স্টাডি ইনস্টিটিউট মঙ্গলবার জানিয়েছে, গত সপ্তাহের শেষের দিকে খারকিভ সীমান্ত অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে রাশিয়ার অগ্রগতির গতি হয়েছে।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক বলেছে, রাশিয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা। যা রাশিয়ার বেলগোরোড অঞ্চলে ইউক্রেনের আন্তঃসীমান্ত হামলা প্রতিরোধ করবে।