স্বামীর পর মারা গেলেন স্ত্রীও, শিশুসন্তান হাসপাতালে

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ভগ্নিপতির দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে আব্দুল কাদেরের মৃত্যুর পর এবার মারা গেলেন তার স্ত্রী শারমিন আক্তার। বুধবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৪টায় ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এর আগে ১ জুন একই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কাদের। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে তাদের শিশুসন্তান ফাতেমা। কাদের কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে। গত ২৭ মে রাত সাড়ে ৩টার দিকে চন্দনপুর গ্রামে ছোটবোনের স্বামী সবুজ হোসেনের দেওয়া আগুনে ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হন আব্দুল কাদের (৩০), তার স্ত্রী শারমিন খাতুন (২৬) ও শিশুকন্যা ফাতেমা খাতুন (৬)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে কাদেরের বোন সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে যশোরের নারায়ণপুর পোড়াবাড়ী এলাকার সবুজ হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। মাসখানেক আগে সবুজ তার স্ত্রীকে মারধর করেন। বিষয়টি তিনি তার ভাই কাদেরকে জানান। কাদের সেখানে গিয়ে সবুজকে বকাবকি করেন। পরে বোনকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হন সবুজ। 

এ নিয়ে গত ২৭ মে রাতে চন্দনপুর গ্রামে ভায়রা-ভাই সোহাগ হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করেন সবুজ। ওই রাতে সোহাগের সহযোগিতায় কাদেরের ঘরে পেট্রল ঢেলে দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে পালিয়ে যান। এতে কাদের, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যা দগ্ধ হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘরের তালা ভেঙে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জুন কাদের মারা যান। এ ঘটনায় ২৮ মে কাদেরের বোন সুফিয়া খাতুন বাদী হয়ে সবুজ ও সোহাগকে আসামি করে কলারোয়া থানায় মামলা করেন। ওই দিনই সোহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এখনও পলাতক রয়েছেন সবুজ।

চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান ডালিম হোসেন বলেন, ‘ভগ্নিপতির দেওয়া নির্মম অগ্নিকাণ্ডে কাদেরের পর তার স্ত্রীও মারা গেলেন। তাদের শিশুসন্তান মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এই জঘন্য অপরাধের জন্য সবুজ ও সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।’

কাদেরের বোন সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘সবুজ প্রায় সময় আমার ওপর নির্যাতন চালাতো। এ জন্য ভাই আমাকে নিয়ে এসেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাইয়ের ঘরে আগুন দিয়েছিল সবুজ।’

কলারোয়া থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কাদেরের বোন সুফিয়া খাতুন এ ঘটনায় মামলা করেছেন। সোহাগ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি সবুজকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’