মাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৯ সদস্যের অনাস্থা

রাজশাহী প্রতিনিধি
০৫ মার্চ ২০২১, ০২:০৬আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ০২:০৬

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন তার পরিষদের ৯ জন সদস্য। এদের মধ্যে ছয় জন সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য। বাকি তিন জন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত ইউপি সদস্য।

বুধবার (৩ মার্চ) তারা লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছেন। এতে তারা চেয়ারম্যানের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন। বিষয়গুলো সরেজমিনে তদন্ত করে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

অনাস্থা প্রস্তাবে যারা সই করেছেন তারা হলেন- ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আশরাফুল, ৩ নম্বরের আবদুস সালাম, ৪ নম্বরের মো. কালাম, ৬ নম্বরের মোয়াজ্জেম হোসেন, ৭ নম্বরের আবু জাফর, ৯ নম্বরের আবদুল আজিজ প্রামাণিক, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মর্জিনা বিবি, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পলি বিবি এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেবেকা বিবি।

অভিযোগে তারা বলেছেন, চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত। আর তার সহযোগী ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান। তারা অভিযোগকারী সদস্যদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে টাকা আত্মসাত করেছেন।  এছাড়াও তারা দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুস্থদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন। নিজস্ব কিছু লোককে দিয়ে নামসর্বস্বভাবে কাজ করিয়ে ৪০ দিনের কর্মসূচির টাকাও আত্মসাত করা হয়। অভিযোগকারীদের ৪৬ মাসের সম্মানী ভাতাও আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের পাশে দোকানঘর নির্মাণের নামে অনেক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘর থেকে যা আয় হয় তাও আত্মসাৎ করা হয়েছে। একটি ইটভাটা থেকে বছরে ৫০ হাজার করে চার বছরের জন্য নেওয়া দুই লাখ টাকারও কোনও হদিস নেই।

অভিযোগগুলো অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান বলেন, সদস্যদের সম্মানী ভাতা বাকি। সেটা আদায় করে দেওয়ার নামে সাদা কাগজে একজন আওয়ামী লীগ নেতা তাদের স্বাক্ষর নেন। এরপর সেখানে অনাস্থা প্রস্তাব লেখা হয়। আসলে অভিযোগগুলো মিথ্যা। সদস্যরা জানতেনই না যে স্বাক্ষর দেওয়ার পর সেখানে অনাস্থা প্রস্তাব লেখা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মো. কালাম বলেন, এটা মিথ্যা কথা। চেয়ারম্যান এখন ‘বাঁচার’ জন্য এসব কথা বলছেন। আমরা কোনও সাদাকাগজে সই দেইনি। আমরা অনাস্থা প্রস্তাবেই স্বাক্ষর করেছি।

অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, এ ধরনের একটা কপি তিনি পেয়েছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ এটার এখন তদন্ত করবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুটবলের উন্মাদনায় এক হলো দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স
ফুটবলের উন্মাদনায় এক হলো দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স
২০১৯ সালের পর নকআউটে হারেনি আর্জেন্টিনা
২০১৯ সালের পর নকআউটে হারেনি আর্জেন্টিনা
চাঁদাবাজি-মারধর: সাভারের বহিষ্কৃত সেই ছাত্রদল নেতা কারাগারে
চাঁদাবাজি-মারধর: সাভারের বহিষ্কৃত সেই ছাত্রদল নেতা কারাগারে
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সিসার চালান, নেপথ্যে দুই সহোদর
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সিসার চালান, নেপথ্যে দুই সহোদর
সর্বাধিক পঠিত
খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ
খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ
এএসপি ফজলুর রহমান গ্রেফতার
এএসপি ফজলুর রহমান গ্রেফতার
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করা সেই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করা সেই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত
আ.লীগের উপদেষ্টা বিএনপিতে যোগ দিয়ে বললেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই বিএনপি’
আ.লীগের উপদেষ্টা বিএনপিতে যোগ দিয়ে বললেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই বিএনপি’
বাবার শেষ বিদায়ে থাকছেন না মোজতবা খামেনি
বাবার শেষ বিদায়ে থাকছেন না মোজতবা খামেনি