গাজীপুরে বাসায় আটকে রেখে বিউটি পার্লার কর্মীকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভিকটিম কিশোরীকে (১৬) নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালতের আদেশ চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আবেদন জানানো হবে। এ ঘটনায় মামলার পর থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অভিযুক্ত নারী কাউন্সিলর পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসআই জানান, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিনি তদন্ত শুরু করেছেন। ভিকটিমের পরিবারের সদস্য বা স্বজন বলতে কারও সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। বিভিন্ন সময় ভিকটিম বাড়ি থেকে কাউকে না বলে চলে আসতো। এমনকি কাউন্সিলরের বাসায় ভিকটিম ছিল বা বিউটি পার্লারে কাজ করতো এমন তথ্যও ভিকটিমের পরিবার জানতো না বলে স্বজনদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানা গেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় মামলার পর থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড) সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর রোকসানা আহমেদ রোজীসহ অন্যান্যরা পলাতক রয়েছেন।
কাউন্সিলরের মালিকানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার রহমান শপিং মলের আনন্দ বিউটি পার্লারও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, ভিকটিমকে পরিবারের জিম্মায় রাখার জন্য কাউকে না পাওয়ায় আদালত ভিকটিমকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার আদেশ দেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর কিশোরী সংশোধনী প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এসআই জানান, বৃহস্পতিবার ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন জানানোর সব প্রকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালতের আদেশ পেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ভিকটিমকে জোরপূর্বক কাউন্সিলরের বাসায় রেখে অনৈতিক কাজ করানোর অভিযোগে ১৬ ফেব্রুয়ারি বাসন থানায় একটি মামলা রুজু হয়। ভিকটিম বাদী হয়ে কাউন্সিলর এবং একজন চিহ্নিতসহ অজ্ঞাতনামা কমপক্ষে তিন জনকে অভিযুক্ত করে ওই মামলাটি করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ এলাকার মৃত কালু শাহ ফকিরের ছেলে নুরুল হককে (৬৫) মঙ্গলবার গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।









