সেকশনস

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর জবানবন্দি

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ২০:২৯

ছবি গুগল ম্যাপ থেকে নেওয়া ‘ধর্ষক বারবার আমার নাম জিজ্ঞেস করছিল। আমি ভাবছিলাম, আমি ঢাবি শিক্ষার্থী বললে আমাকে মেরে ফেলবে। আমার পরিচয় জানলে আমি বাঁচবো না। ওই লোক খুব দাম্ভিক ছিল। আমি তাকে প্রতিরোধ করতে পারিনি।’
ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির আগে ও পরে কয়েকজন শিক্ষক ও বন্ধুকে এভাবে ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে তারা কথাগুলো বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে শেয়ার করেন।
ভিকটিমের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামার পরে থেকে শেওড়ার যে বন্ধুর বাসায় রওনা দিয়েছিলেন তিনি, সেই বন্ধুর বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সময় লাগে মোট সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঠিক কতক্ষণ তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন তা বলতে পারেননি। তবে জ্ঞান ফিরে আসার পর বুঝতে পারেন, ঘণ্টা দুয়েক পার হয়েছে এবং ধর্ষক তখনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাতে হাসপাতালে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম ও সামিনা লুৎফা। ভিকটিম শিক্ষার্থীর সঙ্গে তারা সহমর্মীতা নিয়ে কথা বলেছেন, যার অনেক কিছু তারা গণমাধ্যমকেও জানাতে রাজি হননি।
ঘটনার বিবরণে ভিকটিম কী বলেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সাদেকা হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেয়েটির সামনে পরীক্ষা। স্টাডি সার্কেলে পড়ালেখা করে শিক্ষার্থীরা। সে কারণেই বান্ধবীর বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তার সঙ্গে বাড়তি পোশাক ছিল, পড়ালেখার বই-নোটস আর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস। মেয়েটির বিবরণীতে ধর্ষক একজনই ছিল।’
ধর্ষক কেমন ছিল দেখতে তা বলতে পেরেছে কিনা প্রশ্নে অধ্যাপক সাদেকা বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছিলো সিরিয়াল কিলার। ঠান্ডা মাথায় যে ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে একাধিকবার। এবং মেয়েটিকে জোর করে পোশাকও পরিবর্তন করিয়েছে, আবার ধর্ষণ করেছে। ভিকটিম জানিয়েছে, ধর্ষক তার পরিচয় জানতে চেয়েছে বারবার। মেয়েটি আন্দাজ করছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় পেলে তাকে মেরে ফেলা হতে পারে। তাই সে মুখ খোলেনি।’
কীভাবে পালিয়ে এলেন সে বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ধর্ষণের কোনও একসময় মেয়েটি জ্ঞান হারায়। এরপর যখন জ্ঞান ফেরে তখন সে ধর্ষককে দেখতে পায়। ধর্ষক পেছন ফিরে ভিকটিমের ব্যাগ থেকে কিছু বের করার চেষ্টা করছিল। এই সুযোগে সে ওই স্থান থেকে পালিয়ে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু দূর হেঁটে সে (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) চেষ্টা করেছে সিএনজি বা গাড়ি থামাতে। না পেরে রাস্তা পার হয়ে বন্ধুর বাসায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তখন রাত সাড়ে ১০টা।’
সামিনা লুৎফা বলেন, ‘ঘটনাস্থল এত অনিরাপদ হবে— এটা না জানা থাকলে আন্দাজও করার কথা না। মেয়েটির বয়স খুবই কম। শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। প্রচণ্ড শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, হাতে নানা জায়গায় কালসিটে। মেয়েটি বেঁচে আছে অনেক ব্যথা নিয়ে। অসম্ভব মানসিক শক্তি ছিল বলে প্রায় তিন ঘণ্টা পরে সে ওখান থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছে।’
ধর্ষকের চেহারার বিষয়ে কিছু জানিয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে সামিনা বলেন, ‘অবয়ব বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানিয়েছে সেই শিক্ষার্থী। তবে লোকটি দাম্ভিক ছিল বলেও জানিয়েছে। তাকে পেছন থেকে ধরে নিয়ে গেছে।’
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সাদেকা হালিম বলেন, ‘আমি তার (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) কাছ থেকে বিবরণ শুনছিলাম আর ভাবছিলাম, মেয়েটি আমারই মেয়ে। কী প্রচণ্ড ব্যথা সহ্য করছে!’
তার যথাযথ রেস্ট দরকার উল্লেখ করে এই শিক্ষক বলেন, ‘সঙ্গে মানসিক সহযোগিতাও খুব দরকার। মা-বাবা তার পাশে এসে গেছেন, শিক্ষকরা আছেন, আন্তরিকতা নিয়ে বিষয়টি তারা দেখছেন। সেটা ইতিবাচক। এখন তার আগামীকে সহজ করে দেওয়ার কাজটি আমাদের সবার।’

আরও পড়ুন...

কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

সে আমাদের মেয়ে, তার মনোবল শক্ত থাকবে: ঢাবি ভিসি

ধর্ষণের বিচার দাবিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে ধর্ষণের বিচার দাবি

ঢাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

 

/এইচআই/

সম্পর্কিত

দুদকে নতুন চেয়ারম্যান

দুদকে নতুন চেয়ারম্যান

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো 

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো 

হাতিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

হাতিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

ভাসানচরে যাচ্ছেন আরও ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা

পঞ্চম ধাপের প্রথম দফায় স্থানান্তরভাসানচরে যাচ্ছেন আরও ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা

অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুতের সংবাদে সাতছড়িতে অভিযান

অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুতের সংবাদে সাতছড়িতে অভিযান

প্রেস ক্লাবে সংঘর্ষের মামলায় সোহেল-টুকুসহ ৬ নেতার জামিন

প্রেস ক্লাবে সংঘর্ষের মামলায় সোহেল-টুকুসহ ৬ নেতার জামিন

বেরোবিতে হল ও ভবন নির্মাণে অনিয়ম, উপাচার্যকে দায়ী করে প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনবেরোবিতে হল ও ভবন নির্মাণে অনিয়ম, উপাচার্যকে দায়ী করে প্রতিবেদন

গ্যাটকো মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

গ্যাটকো মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

১৬৭৫ টুরিস্ট স্পটের জন্য ১৩০০ টুরিস্ট পুলিশ

১৬৭৫ টুরিস্ট স্পটের জন্য ১৩০০ টুরিস্ট পুলিশ

কোভ্যাক্স থেকে এক কোটি ৯ লাখ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

কোভ্যাক্স থেকে এক কোটি ৯ লাখ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

সর্বশেষ

দুদকে নতুন চেয়ারম্যান

দুদকে নতুন চেয়ারম্যান

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

দিনমজুরের সঞ্চয়ে গড়া গ্রাম পাঠাগার 'সাতভিটা গ্রন্থনীড়'

আফগানিস্তানে তিন নারী গণমাধ্যমকর্মীকে হত্যা

আফগানিস্তানে তিন নারী গণমাধ্যমকর্মীকে হত্যা

করোনার টিকাদান কর্মসূচিতে শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান বাইডেনের

করোনার টিকাদান কর্মসূচিতে শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান বাইডেনের

সাতক্ষীরায় হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ: যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

সাতক্ষীরায় হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ: যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো 

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো 

হাতিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

হাতিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

হাতিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

হাতিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

এইচ টি ইমামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে

এইচ টি ইমামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে

ভাসানচরে যাচ্ছেন আরও ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা

পঞ্চম ধাপের প্রথম দফায় স্থানান্তরভাসানচরে যাচ্ছেন আরও ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা

অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুতের সংবাদে সাতছড়িতে অভিযান

অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুতের সংবাদে সাতছড়িতে অভিযান

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো 

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো 

প্রেস ক্লাবে সংঘর্ষের মামলায় সোহেল-টুকুসহ ৬ নেতার জামিন

প্রেস ক্লাবে সংঘর্ষের মামলায় সোহেল-টুকুসহ ৬ নেতার জামিন

গ্যাটকো মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

গ্যাটকো মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

কার্টুনিস্ট কিশোরের জামিন

কার্টুনিস্ট কিশোরের জামিন

অর্থপাচার মামলা: সম্রাট-আরমানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৪ মার্চ

অর্থপাচার মামলা: সম্রাট-আরমানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৪ মার্চ

সাবরিনার দুই এনআইডির মামলার প্রতিবেদন ৫ এপ্রিল

সাবরিনার দুই এনআইডির মামলার প্রতিবেদন ৫ এপ্রিল

ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল

ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১২ এপ্রিল


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.