সেকশনস

দেবেশ রায়ের ভাষণ

তাহলে কেন আমি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকব?

আপডেট : ২৮ মে ২০২০, ১২:৫২

লেখকের আত্মগোপনের ব্যাপারটা জরুরি। খুব ছোটবেলায়ই শরৎচন্দ্রের ছবি দেখেছি। ওই যে একপাশে সাদা চুল এলানো ছবিটা। বেশ হ্যান্ডসাম। আমার ঠাকুরদার টানিয়ে রেখেছিলেন। শরৎচন্দ্র কিন্তু ওই রকম দেখতে ছিলেন না। তার আসল চেহারাটা অতটা হ্যান্ডসাম নয়। দেখবেন আগের লেখকদের খুব একটা ছবি-টবি পাওয়া যায় না। বা পেলেও একটি কি দুটো ছবি ঘুরে ফিরে পাওয়া যায়। সেকালে অত সুযোগও ছিল না ছবি দেওয়ার।

বিভূতিভূষণের কয়টা ছবি পাওয়া যায়? খুবই অল্প। তারাশঙ্করের ছবি—হাতে গোনা। তারাশঙ্করের কথাটা বলার আগে আমি একটা কথা বলতে চাই। আসলে এখন অনেক কিছু আর লাইন ধরে মনে পড়ে না। খাপছাড়া হয়ে যায়। বয়স হয়েছে তো নিজেকে আর আগের মতো কথাবার্তায় ধরে রাখতে পারি না।

১৯৭০ সালের দিকে একদিন রাতে আমার বন্ধু সন্দীপন এসে বলল, চল অমিতাভ’র বাসায় যাই। অমিতাভ দাশগুপ্ত।

রাতের বেলা? আমি বলি।

সে বলে, চলই না।

তো আমরা কিছু খাবার-দাবার একটা বোতল নিয়ে গেলাম।

অমিতাভ বলে, তোরা এসেছিস ভালো, কিন্তু তো রাতের খাবার খেয়ে নিয়েছি।

অমিতাভ খায় পাখির মতো। তো কি আর, গল্প হলো আড্ডা হলো। রাত কাটলো। শেষ রাতে একটু ঘুমও হলো।

সকালে উঠে সন্দীপন বলল, কী, যাবে নাকি?

আমি বলি, কোথায়?

তখন মনে হলো ও তারাশঙ্করের বাড়িটা তো কাছেই। আর সেখানের পাশেই একটা জায়গায় অনুষ্ঠান হবে।

সন্দীপন ধরেই নিয়ে গেল। হলরুমে দু’পাশে দেশবরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি। সারি সারি ছবি দু’পাশে গিয়ে স্টেজ পর্যন্ত, সেখানে সম্ভাব্য প্রতিকৃতি হয়ে বসে আছেন স্বয়ং তারাশঙ্কর। তো লোক জমে উঠতে শুরু করেছে।

এর ভেতরে একজন এসে বলল, আরে চল চল। তারাশঙ্কর তোমার বইয়ের ওপর লিখেছেন। দেখা করতে চান। আজ সুযোগ চল।

আমি হু-হা করে কোনোমতে কেটে পড়লাম। দেখা হলো না।

এবার ঢাকায় এয়ারপোর্টে নেমেছি। আমার হাতে যে ব্যাগটা থাকে তা আমি নিজেই বহন করে থাকি। পারভেজ বললেন, তাকে ব্যাগটা দিতে।

আমি বলি, এটা আমি নিজেই বহন করে থাকি।

তিনি তখন বললেন, রবীন্দ্রনাথ হলে কী করতেন?

রবীন্দ্রনাথ! তাঁকে তো দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে তাঁর সঙ্গে আমার যা সম্পর্ক তিনি কোথাও এসেছেন শুনলে আমি সেই তল্লাটেই থাকতাম না।

তো লেখকের আত্মগোপনের দরকার আছে। অনেক গূঢ় গভীর কারণ আছে।

আমার লেখা নিয়ে গবেষণা করছেন কেউ কেউ। আমার সঙ্গে আলাপ কথাবার্তা বলতে চাইলে আমি বলি, আমার যা কিছু বলার তা আমি লিখেই বলে দিয়েছি। আমার কাছে নতুন করে বলার কিছু নেই। তারপর লোকে জানতে চায় লেখাটা কী করে লিখি। ইত্যাদি অনেক প্রশ্ন আছে।

আমার বয়স তো বাহাত্তর হলো। লেখালেখিও অনেকদিন থেকে করছি। কিন্তু আমি আজও জানি না লেখাটা কী করে লেখে। এমনিতে আমি খুব প্রস্তুতি-বিলাসী লেখক। লেখার আগে অনেক চিন্তা করি। নোট নেই। অনেক কাটাকুটি করি কাগজে। তারপর লেখাকে একটা ফ্রেমের ভেতরে না দেখতে পেলে লেখা শুরু করতে পারি না। সে যত ছোট বই হোক কি বিরাটাকারে কোনো বই হোক না কেন। সেই আমার একটা ঘটনা ঘটল।

দুপুরে খেয়ে-টেয়ে আমার একটু বিছানায় গড়িয়ে নেওয়ার অভ্যাস আছে। তো একদিন এমনই যথারীতি শুয়েছি। কানের ভেতর একের পর এক সংলাপ শুনতে পাচ্ছিলাম। কাত হয়ে যে-কানে সংলাপ শুনছিলাম ওটা চাপা দিয়ে অন্যদিকে কাত হয়ে শুলাম। তো সেই সংলাপ থামল না, সে-কানেও সংলাপের পর সংলাপ আসতে লাগল। এবার সোজা হয়ে পড়ে থাকলাম; তখনও দু’কানে অবিরাম সংলাপ আসতে লাগল।

এভাবে আর শুয়ে থাকা গেল না। বাধ্য হয়ে উঠে পড়লাম। আর টেবিলে লিখতে বসে গেলাম। এবং সেই লেখা হয়ে দাঁড়াল প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার এক বিরাট অভিযান—যেটি পরে ‘তিস্তাপুরাণ’ হলো।

না না, আমি আর বলবো না, আমি এভাবে আমার নিজের লেখা নিয়ে বলতে চাই না। আমায় ক্ষমা করে দেবেন।

(দেবেশ রায় কথা থামিয়ে নেমে যেতে চাইলে, দর্শকরা তাকে সমস্বরে বলতে বলেন, তিনি তখনও না না করে নেমে যাচ্ছিলেন, তখন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ তাকে বলেন, দেবেশ রায় খানিকটা ধাতস্থ হয়ে ফের ডায়াসে ফিরে এলেন)

আমি আসলে নিজের লেখালেখি নিয়ে এমনভাবে কোনোদিন কিছু কোথাও বলিনি। এটাই প্রথম হলো। আসলে বয়স হয়েছে তো। সে যাই হোক। আসলে আমার আগে যাঁরা বললেন, তাঁদের কথা শুনে কিছু কিছু ব্যাপারে আমি বলতে চাইছিলাম। তাই নিজের কথা এসে গেল। লেখালিখিটা কীভাবে হয় আমি তো জানি না আজও। কিন্তু আগের আলাপ শুনে মনে হল, আপনাদের মধ্যে দুই কি একজন সেটা কী করে হয় জানেন হয়তো।

আপনারা জানেন, কামতাপুরি ভাষা নিয়ে এখন একটা ব্যাপার-স্যাপার চলছে। তো নিখিলেশ বলে একটা ছেলে আছে, সে কামতাপুরি ভাষায় একটা কাগজ করে। নিজেও ভালো কবিতা লেখে। আমাকে যখন সে এসে বলল, একটা গল্প দিতে। আমি তার কাগজ দেখতে চাইলাম। তার কাগজ দেখে তো আমি অবাক। আমি বললাম, এ তুমি কী করেছ নিখিলেশ, সাংঘাতিক কাণ্ড! এ যে কামতাপুরিতে লেখা।

ও বলল, আমাকেও কামতাপুরিতে লিখতে হবে।

ওকে লেখা দিলাম। গল্প। কামতাপুরিটা আমি মোটামুটি লিখতে পড়তে জানি। তো এ নিয়ে বামফ্রন্টের লোকজন আমার বাসায় কয়েকদিন আড্ডায় আমাকে ধরে বসল, এ আপনি কী করেছন দেবেশদা! ওদের ওখানে লিখেছেন!

কেন? মন্দটা কী হলো?

আপনি জানেন না ওরা কী করতে চাইছে। না না, এটা আপনার ঠিক হয়নি!

আমি বললাম, ঠিক হয়নি তো আপনারাও সেটি লিখে বলুন। মুখে বললে তো আসলে জিনিসটা বুঝতে পারব না।

তো লেখা ব্যাপারটা আর কী! সত্যজিতের একটা ছবি দেখে বাসায় ফিরেছি।

কাকলী বলল, কেমন দেখলে?

আমি বললাম, ভালো লাগেনি। সত্যজিৎ বাবুর ছবি আর দেখব না।

কেন?

নতুন কোনো কিছু পাচ্ছি না।

তো তোমার যে তা ভালো লাগছে না, তুমি সেটি তাকে লিখে জানাও।

আমি বলি, কী যে বলছো না! শোনো, বাপ যদি রাতের বেলা মদের বোতল বগলে নিয়ে ঢোকে আর ছেলে যদি তা দেখে ফেলে, তারপরও সে কথা জানান দিতে হয় না। বাপের পাপের কথা বলতে নেই। সত্যজিৎ হলেন বাপ।

আমার এক ভাইপো বিক্রম। ছবি-টবি বানায়। প্রথমে তো লেখাপড়া শিখে কিছু করে না। বাপের অনেক আছে। তারপর এক মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে। সেই মেয়ে আবার মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানির বড় চাকুরে। তো মেয়ের বাপ-কাকারা আমাকে ধরল কী করা যায়।

আমি বললাম, দিয়ে দিন বিয়ে।

তো সে বিয়ে হলো। ভাইপোটি আমাকে ডাকে ‘মশাই’ বলে। একটা ছবি বানিয়ে বম্বেতে কী একটা পুরস্কারও পেল।

আমাকে এসে বলল, দেখলেন তো মশাই আপনি তো কিছুই বললেন না। ওরা ঠিকই বুঝল। পুরস্কার দিলো।

তো আর কী! পুরস্কার পেয়েচিস এখন নাচ!

ও বলল, শুনুন মশাই ওসব সত্যজিৎ-ঋত্বিক দিয়ে আর হবে না।

আমি বললাম, যাকে দিয়ে হবে তাকে দিয়ে কর।

বুঝলেন, এক্কেবারে আসল জিনিস নিয়ে আসতে হবে।

সে আবার কী রকম?

যেমন ধরেন, যুদ্ধের শ্যুটিং করতে একেবারে সত্যিকারের যুদ্ধের ফ্রন্টে চলে যেতে হবে।

তাই নাকি! তাহলে তো একটা মুশকিল রয়েই গেল।

কী রকম?

কারণ তার আগে তো তোকে যুদ্ধটা লাগাতে হবে। তারপর তো ফ্রন্টে যাবি নাকি?

সবেতে নতুন একটা পথ খোঁজার চেষ্টা থাকে। সেটি ভালো। তবে সমাজে ডেভলপমেন্ট বলে যে জিনিসটা এখন হচ্ছে, শহরে গ্রামে। আমি চিরদিন এইসব ডেভেলপমেন্টের বিরোধী। কলকাতায় ফ্লাইওভার হবে। তো কাজটা দেওয়া হতে যাচ্ছিল এক বিদেশী কোম্পনিকে। সবাই মিলে ঠেকালো। এরপর কাজটা যে দেশি কোম্পানিকে দেওয়া হল, তার নামে কী খবর বের হলো? শিরোনামে: ‘কাজটা পেলেন নীহার সেনের দৌহিত্র’—এটাও অন্যায়।

আমার কথা হলো, যাকে কাজটা দেওয়া হয়েছে তার নামেই খরবটা বলা হোক, এর মধ্যে নীহার সেনকে টানা কেন? নীহার সেনের নামটা যে লিখল সাংবাদিক, তার হাত একটুও কাঁপল না? সে কি জানে এই দেশটার জন্য নীহার সেনদের মতো লোকের কন্ট্রিবিউশন? সেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে আন্দামানে যাওয়া, জেল খাটা লোক। পরে দেশে ফিরে এমএলএ হওয়া। কত বড় বড় আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে যে আমাদের এখানে আসা—তারা কারা? আমরা ভুলে যাই। এই ধরনের কাণ্ড আমরা করে ফেলি।

যারা সেই আত্মত্যাগটা করেন, তাদের নামটা যখন নেবেন একটু অ্যাডম্যায়ার করবেন। এখানে এলেন, কিছু কথা বলে চলে গেলেন, অথচ কোনো একটা প্রমাণ দিলেন না, যুক্তি দিয়ে বললেন না কিছু, কেবল মন্তব্য করে গেলে তো আর হবে না, যে জীবন আমি যাপন করি না সে জীবন নিয়ে লেখার অধিকার আমার নেই। কেন নেই? একটা কথা বলে চলে গেলেও ‘ই’ তো হয়ে গেল না। রবীন্দ্রনাথের ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ গল্প, তারাশঙ্করের গল্প ‘অগ্রদানী’ এমন কত গল্প বাংলায় লেখা হয়েছে যার ভেতরে দিয়েই বাংলা গল্পকে যেতে হয়েছে। তারপরও ওই গল্পগুলো আজও আগানোর চেয়েও এগিয়ে।

আহ্! ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’-এর মতো গল্প বিশ্বসাহিত্য আর একটা আছে কি? আজকাল পোস্টমর্ডান বলা হচ্ছে কী সব! আমি বলব, ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’-এর মতো পোস্টমর্ডান গল্প আর একটা দেখান? গল্পে শুরুটা দেখুন, ‘রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি...’ ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর তো জানেন কী কী হলো। ছেলেটি ডুবে মারা গেল। তার মা বললেন, যেখান থেকে পারিস ছেলেকে এনে দে। রাইচরণকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া হলো। সে ফিরে এল, তার নিজের ছেলেকে সে মুন্সেফের ছেলের মতো করে বড় করে তুলে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিল। আর শেষে যখন তার নামে কিছু টাকা পাঠানো হল, শেষ লাইনে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘সে টাকা ফিরিয়া আসিল। সেখানে কোনো লোক নাই।’ আহ! এমন গল্প কটা আছে বলুন। এমন পোস্টমর্ডান গল্প, এমন ক্রাফটম্যানশিফ দ্বিতীয়টি নেই।

তো এঁদের নাম-টাম যখন নেবেন, একটু অ্যাডম্যায়ার করবেন।

কী ছিলাম আমরা? কেন ব্রিটিশরা এদেশে এল? তারা কি একটা কঙ্কালের দেশে এসেছিলো? আরে ভাই, আমরা বলে অলস। এমন ফার্টিলিটি যে-ল্যান্ডের, রাতে বীজ ছিটালে সকালে ধান গাছ! সেখানে কোন বোকা আছে যে খাটতে যাবে। সেই ভূমিতে এসেছিল ইংরেজরা।

পলাশির যুদ্ধে নিয়ে তো বিরাট এক উপন্যাস হয়ে যায় কীভাবে কাণ্ডটা তারা ঘটিয়েছিলো। তার ভেতরে কত রকমের জুয়োচুরি ছিল। সিরাজের মার খেয়ে তো সব পালিয়েছে জাহাজে। সেখানে বসে আবার সব ফন্দি আঁটল। তারপর তো ক্লাইভের চালবাজি। গুটি কয়েক ইংরেজ সৈন্যের কাছে নবাবের বিশাল বাহিনীর পরজায়। কত কিছু যে আছে ! প্রাচীন বইপত্র ঘাটতে পারলে অনেক কিছু জড়ো করা যেতে। কিন্তু এখন সেই খাটুনির বয়স নেই।

আমি বলতে চাই চাই তারা যে জায়গাটায় এসেছিল, সে জায়গার সব কিছু কি দুশো বছরে ধুয়ে-মুছে শেষ করে দিয়ে তারা চলে গেছে? এতই সোজা তা করা? আমাদের কেন তাদের দিকে সব সময় তাকিয়ে থাকতে হবে?

আমাদের সেই যে মঙ্গলকাব্য, আখ্যানকাব্য ছিল, সেখানে কী জীবনের কথা আছে—দেখুন গিয়ে, আজকাল আমরা যে লাতিন আমেরিকা, লাতিন আমেরিকার সাহিত্যর কথা বলি তাতে যে ‘গ্রস হিউমার’ সে তো আমাদের এখোনে ছিল সেই মধ্যযুগের লেখায়।

পার্বতী শিবকে বলল সে দেবতার বাড়ি কাজ করতে যাবে। শিব রাজি নয়।

বলে, দেবতাদের যা স্বভাব। না না তুমি ওতে যেও না।

কিন্তু পার্বতী যাবেই। নইলে চলবে কী করে সংসার।

শিব বলল, যদি সতী হয়ে ফিরতে পারো তো যাও।

তা গেল। আর দেবতারও সুযোগ নিল। কাজ-টাজ করে টরে যখন ফিরল দেখে তার কাঁচুলির একটা দিকে ছিঁড়ে গেছে। তো কী করা যায়। এখন তো বিপদ। শিব ব্যাটা তো দেখেই বুঝে যাবে। কী করা যায়, পথে দেখল এক লোক ছাতা ঠিক করছে। আর সে যে সে ছাতা ঠিক করেনেওয়ালা নয়, একেবারে ফরিদপুরের ছাতা ঠিক করনেওয়ালা। তাকে বলল, একটু সেলাই করে দিতে। ছাতাওয়ালা বলল, তা করে ঠিক করে দিবে কিন্তু টাকা নয়, তাকে তার সঙ্গে শুতে হবে। তো পার্বতী রাজি হলো। কাঁচুলির ছেড়া অংশ ঠিক ঠাক করে সে দিব্যি সতী হয়ে বাড়ি ফিরল।

তো এই যে-‘গ্রস হিউমার’—এই নিয়েই তো করে খাচ্ছে লাতিন আমেরিকানরা। সেই গ্রস হিউমার আমরা ফেলে দিয়ে এসেছি কয়েক শো বছর আগে।

আমরা ঠাকুরদা শরৎচন্দ্রের ছবির পাশাপাশি আরেকটা ছবি টানাতেন। তা হল পঞ্চম জর্জের ছবি। রাজরাজেশ্বর তিনি। আমার বাপেদেরও এই করতে দেখেছি।

তারা আমার ঠাকুরদাকে খেয়েছে, আমার বাপকে হজম করেছে কিন্তু, আমি তা হতে দিবো কেন? আমি এবার তাদের হজম করে নিজের কাজটা করব। কারণ আমার প্রেক্ষাপট এক-দুইদিনের নয়। আমার ভূমি ঊষর কোনো ভূমি নয়। তাহলে কেন আমি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকব?

১৮ জানুয়ারি ২০০৯

স্থান: বাংলাদেশ শর্ট ফিল্মফোরাম অডিটরিয়াম, শাহবাগ, ঢাকা

//জেডএস//

সম্পর্কিত

লুইস গ্লুকের নোবেল ভাষণ

লুইস গ্লুকের নোবেল ভাষণ

নাটক নিয়ে | গিরিশ কারনাড

নাটক নিয়ে | গিরিশ কারনাড

ওলগা তোকারচুকের নোবেল ভাষণ (শেষ পর্ব)

ওলগা তোকারচুকের নোবেল ভাষণ (শেষ পর্ব)

সর্বশেষ

আমরা এক ধরনের মানসিক হাসপাতালে বাস করি : মাসরুর আরেফিন

আমরা এক ধরনের মানসিক হাসপাতালে বাস করি : মাসরুর আরেফিন

মুরাকামির লেখক হওয়ার গল্প

মুরাকামির লেখক হওয়ার গল্প

সম্পর্ক; আপন-পর

সম্পর্ক; আপন-পর

সন্ধ্যারাতে কাঁটাবন যাত্রা

সন্ধ্যারাতে কাঁটাবন যাত্রা

লুইস গ্লুকের নোবেল ভাষণ

লুইস গ্লুকের নোবেল ভাষণ

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৫

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৫

বিদায় নক্ষত্রের আলো রাবেয়া খাতুন

বিদায় নক্ষত্রের আলো রাবেয়া খাতুন

ফুলমতি

ফুলমতি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.