জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধে পুলিশি হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দুই জন আহত হয়েছেন। এ সময় এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- চারুকলার এমফিলের শিক্ষার্থী আব্দুল মজিদ অন্তর ও আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম। অন্যদিকে আটক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বিন আফতাব শুভ আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা বলেন, জাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আমরা বিকাল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করি। এতে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বক্তব্য দেন। পরে আমরা সড়ক অবরোধ করি। একপর্যায়ে পুলিশ আমাদের সড়ক ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয়। আমরা বলেছিলাম ১০ মিনিট অবস্থান করে চলে যাবো।
তারা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ কথা না শুনে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক অন্তর ভাইসহ অন্তত তিন জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক বলেন, শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে ওঠে অবরোধের চেষ্টা করেন। তারা রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ি চলাচলে বাধা দেন। এ সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আন্দোলনকারী রাস্তার পাশে পড়ে গেলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থল থেকে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুইজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ সময় কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়া কয়েকজন শিক্ষক তাদের দেখতে যান।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু বলেন, ‘কর্মসূচিতে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে শিক্ষকদের ওপর হামলা। প্রধান ফটক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এখানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি যান চলাচল স্বাভাবিক। সাংবাদিকরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন।’
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। থানায় যোগাযোগ করছি।’
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কোনও ঘটনা ঘটেনি। জনসাধারণের ভোগান্তি যাতে না হয় সেজন্য শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক ছেড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে যেতে বলা হয়েছিল।’
ওসি আরও বলেন, ‘বাসচালকের গায়ে হাত তোলায় শুভ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’