X
রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২২ চৈত্র ১৪৩১

বালু উত্তোলনে সিরাজগঞ্জে ঝুঁকিতে নদ-নদী ও তীর রক্ষা বাঁধ

আমিনুল ইসলাম খান রানা, সিরাজগঞ্জ
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫৩আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৯

বালু উত্তোলনে সিরাজগঞ্জে ঝুঁকিতে নদ-নদী ও তীর রক্ষা বাঁধ ভাঙনের পাশাপাশি নদীর গতিপথ ও পানির প্রবাহ বন্ধ করে যেখানে-সেখানে বালু উত্তোলনের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদী। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও তীর রক্ষা বাঁধ। অবৈধ বালু উত্তোলনে বিপন্ন হচ্ছে জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ, কৃষি উৎপাদন, চাষাবাদ। বসতভিটা ও জমিজমা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন জেলার নদী পাড়ের হাজারও মানুষ। নদ-নদী তথা বাঁধ সুরক্ষায় বালু মহাল ইজারায় সুষ্ঠু পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছে জেলাবাসী।

যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙনের যেমন তীব্রতা রয়েছে, জেলার নদ-নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন সমস্যাও হচ্ছে প্রকট। ‘ডেল্টা বা বদ্বীপ কর্মসূচি’র আওতায় আগামীতে হুড়া সাগরসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদী খনন প্রকল্প শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে অবৈধ বালি উত্তোলন রোধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছে সচেতন মহল।
সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর, চৌহালী, কাজিপুর, রায়গঞ্জ ও বেলকুচির যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে সারাবছরই থেমে থেমে ভাঙন রয়েছে। ভাঙন রোধে পাউবো বছর বছর পদক্ষেপ নিলেও এখনও সুরক্ষিত হয়নি পুরো সিরাজগঞ্জ জেলা। জেলার কাজিপুর ও শাহজাদপুরে প্রায় সাড়ে ১২ কি. মি. যমুনার তীর এখনও উন্মুক্ত ও অরক্ষিত রয়েছে। দু’দশক ধরে ক্রমাগত ভাঙনের কারণে জেলার সীমারেখা থেকে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে চৌহালী। শাহজাদপুরের জালালপুর, কুঠিপাড়া, পাচিল, আরকান্দি, পাকুড়তলা ও বাঐখোলাসহ যমুনা তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামে গত দু’ সপ্তাহ থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এজন্য যমুনায় যেখানে-সেখানে অবৈধ বালু উত্তোলনকে দুষছেন স্থানীয়রা।

যমুনা, করতোয়া, ফুলজোড়, হুড়া সাগর ও বাঙ্গালীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর তলদেশ থেকে প্রতিনিয়ত বাল্ডহেড বা বাংলা ডেজ্রার দিয়ে যত্রতত্র বালি উত্তোলন কার্যক্রম চালু রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বালি সরবরাহের অজুহাতে স্থানীয় বালি ব্যবসায়ীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারিভাবে বালু মহালের ইজারা নিয়ে বালি উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে এসব নদ-নদী। বালু উত্তোলনে সিরাজগঞ্জে ঝুঁকিতে নদ-নদী ও তীর রক্ষা বাঁধ

বালুখেকোদের যত্রতত্র বালি উত্তোলনে কারণে কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার লোকজন মানববন্ধন করে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপিও দেন। সম্প্রতি বালু উত্তোলন বন্ধে সংঘর্ষে অর্ধশত গ্রামবাসী আহত হন।
কামারখন্দের চৌবাড়িতে হুড়া সাগর নদীর প্রবাহ বন্ধ করে প্রশাসন থেকে বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পটি ডেল্টা খনন পরিকল্পনার সাংঘর্ষিক। আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ না হলে হুড়া সাগর মরা নদীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো’র উপ-বিভাগীয় এ.কে.এম.রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলার নদ-নদীতে বালু মহাল ইজারার আগে পাউবোর মতামত নেওয়া উচিত ছিল। নদীর তলদেশ যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাল্কহেড দিয়ে নদ-নদী থেকে বালি উত্তোলন ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নিষিদ্ধ থাকলেও সিরাজগঞ্জের সবজায়গায় এটিই হচ্ছে।’
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চৌবাড়িতে হুড়া সাগর নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ ও বালি ভরাট করে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের প্রকল্প অপরিকল্পিত। কাজিপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার সাড়ে ১২ কিলোমিটার অরিক্ষত ও উন্মুক্ত স্থানে বাঁধ নির্মাণ এবং তীর রক্ষায় প্রায় ১৩শ’ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প দেওয়া আছে। প্রকল্প দুটি এখনও পাস হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম পিকে বলেন, ‘ফুলজোড় নদীর বালি উত্তোলন করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের ওপর ক্ষতিগ্রস্ত নলকা সেতুর দু’পাড়ে পাহাড় করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক উন্নয়ন সভায় অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনও অভিযান নেই।’ বালু উত্তোলনে সিরাজগঞ্জে ঝুঁকিতে নদ-নদী ও তীর রক্ষা বাঁধ
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘প্রশাসন বালুমহাল ইজারা দেওয়ার পর সঠিকভাবে নদীতে সঠিক স্থান চিহ্নিত করা হয়। অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা যখন সেটি উপেক্ষা করার চেষ্টা করেন, তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী বলেন, ‘নদীর গতিপথ বা পানির প্রবাহ বন্ধ বা কৃষি জমি ভরাট করে প্রকল্প গ্রহণের উদ্দ্যোগ সরকারি বা ভূমি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় নেই। জেলা মাসিক উন্নয়ন সভায় সওজের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দেখার জন্য রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

 

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রিয়ালের হারের সুযোগ নিতে পারেনি বার্সা
রিয়ালের হারের সুযোগ নিতে পারেনি বার্সা
সরকারি অফিস ব্যাংক বিমা আদালত খুলছে আজ
সরকারি অফিস ব্যাংক বিমা আদালত খুলছে আজ
যাত্রাবাড়ীতে বেড়েছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ
যাত্রাবাড়ীতে বেড়েছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ
পাঞ্জাবের বিপক্ষে রাজস্থানের জয়ে ওয়ার্নকে পেছনে ফেললেন স্যামসন
পাঞ্জাবের বিপক্ষে রাজস্থানের জয়ে ওয়ার্নকে পেছনে ফেললেন স্যামসন
সর্বাধিক পঠিত
‘জংলি’ দেখে যা বললেন ‘প্রিয়তমা’ নির্মাতা
‘জংলি’ দেখে যা বললেন ‘প্রিয়তমা’ নির্মাতা
চীনের পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে খুশি নন ট্রাম্প
চীনের পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে খুশি নন ট্রাম্প
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী
রফতানিতে সংকট নয়, সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছে সরকার
রফতানিতে সংকট নয়, সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছে সরকার
৫৫ বছর বয়সে বিয়ে, এক মাস পর ডাকাতের হাতে প্রাণ গেলো প্রবাসীর
৫৫ বছর বয়সে বিয়ে, এক মাস পর ডাকাতের হাতে প্রাণ গেলো প্রবাসীর